শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মসজিদে দোয়া মাহফিল
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মসজিদে দোয়া মাহফিল।   ছবি: আরটিএনএন

ভারতীয় আগ্রাসনের আশঙ্কা থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রধান মুসলিম রাষ্ট্র—বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে রক্ষায় শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।

সোমবার শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ আয়োজিত এক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোনাজাত পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের সিনিয়র খতিব নাজির মাহমুদ।

দোয়া মাহফিল শেষে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত জাতীয় তিন নেতার মাজারে গিয়ে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কবর জিয়ারত করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে খোমেনী ইহসান শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে বলেন, তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুসলিম নেতা। কেবল একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, বরং ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণে নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর, বঞ্চিত কৃষকের আশ্রয় এবং মুসলিম জাতিসত্তার জাগরণের পথপ্রদর্শক হিসেবেও তিনি ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে শেরে বাংলার ঐতিহাসিক প্রস্তাবের মাধ্যমেই দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানরা পরবর্তীতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র লাভ করে। তবে বর্তমান সময়ে তিনি দাবি করেন, দুই দেশেই লুটেরা পুঁজিবাদ ও স্বৈরাচারী প্রবণতার মাধ্যমে এক ধরনের নতুন ‘জমিদারি শাসন’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী ভারত উভয় দেশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, যার ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আজ সার্বভৌমত্ব রক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে খোমেনী ইহসান বলেন, দেশে যদি নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। আর শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে উঠলে দেশ প্রতিরক্ষার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক আন্দোলন কেবল ভোটাধিকারের লড়াই নয়, বরং এটি জাতির অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রাম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান, সদস্য মো. সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ এবং সহকারী সদস্য সচিব মো. আরিফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এসএস