ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।   ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। সংগঠনটির অভিযোগ, এটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দখলদারি প্রতিষ্ঠার একটি “নির্লজ্জ নীলনকশা”।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে এক বিবৃতিতে ডাকসু জানায়, এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক আইডি সম্পাদনা করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি আপত্তিকর ছবি সংযুক্ত করে তার বিরুদ্ধে উত্তেজনা ছড়ানো হয় এবং তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। নিরাপত্তার আশঙ্কায় ওই শিক্ষার্থী শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে যান। এরই মধ্যে স্বীকৃত তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট পোস্টের স্ক্রিনশটকে সম্পাদিত বলে নিশ্চিত করে।

ডাকসুর দাবি, সাধারণ ডায়েরি করতে যাওয়া শিক্ষার্থী ও তার সঙ্গে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের থানার ভেতরেই ছাত্রদলের স্লোগান দেওয়া নেতাকর্মীরা অবরুদ্ধ করে হামলার চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে উপস্থিত হন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা, সূর্যসেন হল সংসদের সহ-সভাপতি আজিজুল হক, হাজী মুহম্মদ মুহসিন হল সংসদের সহ-সভাপতি সাদিক শিকদার, সহকারী সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ, অমর একুশে হল সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক উবায়দুর রহমান হাসিবসহ আরও অনেকে।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি-এর সভাপতি মানজুর হোসাইন মাহি ও সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলামসহ ক্যাম্পাসের সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার মধ্যেই ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও বহিরাগত নেতাকর্মীরা ডাকসু প্রতিনিধি, সাংবাদিক সমিতির নেতা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে হামলাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

ডাকসু এই ঘটনাকে “নৃশংস ও নির্লজ্জ হামলা” আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, অতীতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাই স্বৈরাচারী সরকারের পতনের কারণ হয়েছে; ফলে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসের মাধ্যমে দখলদারি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা তার জবাব দেবে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ডাকসু কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলো হলো: হামলায় জড়িত চিহ্নিত ব্যক্তিদের অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। ঢাবি শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং আইনি জটিলতার নামে নতুন করে দমনমূলক পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না। দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা ব্যর্থ ছিল—শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দখলদারি রাজনীতি ও সন্ত্রাসে কোনো ধরনের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে।