ঢাবিতে একদিনে ছয় সাংবাদিককে হেনেস্তা, ডাকসুর প্রতিবাদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।   ছবি: আরটিএনএন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একদিনে পৃথক দুই ঘটনায় অন্তত ছয়জন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিকের তথ্য জানার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তি ।

গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় জানা যায়, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের হেনেস্তা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্যাম্পাসে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ছাত্রদলের কর্মীরা সাংবাদিকদের কাজ করতে বাধা দেন এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন।

ডাকসু কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা তৈরির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা গণমাধ্যমের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং তাদের ওপর হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা শুধু সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকেই ক্ষুণ্ন করে না, বরং নাগরিকের তথ্য জানার মৌলিক অধিকারকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।” তারা দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনাগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, সাংবাদিক সংগঠনগুলো ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্যাম্পাসে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

এদিকে, গতকাল রাতে বিজয় একাত্তর হলে দেয়াল লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা, উত্তেজনা ও সৃষ্টি হয়েছে। একই দিনে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলেও একইরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পৃথক দুটি ঘটনায় ছাত্রদল কর্তৃক ছয়জন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জাতীয় ছাত্রশক্তি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে। 

জাতীয় ছাত্রশক্তি মনে করে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া, হেনস্তা বা আক্রমণ করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং এটি স্বাধীন গণমাধ্যমের উপর সরাসরি আঘাত।

সংবাদপত্রকে ডেমোক্রেসির ৪র্থ স্তম্ভ বলা হয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সত্য প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হয়, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।একই দিনে একাধিক ঘটনায় সাংবাদিক হেনস্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত।

জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি-এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানায়।একই সাথে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান থাকবে সংঘাত ছেড়ে সংলাপের রাজনীতি বেছে নেওয়ার।জাতীয় ছাত্রশক্তি সবসময় একটি সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পক্ষে কাজ করে যাবে।