ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় আবারও বাংলাদেশি যুবক নিহত
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় আবারও বাংলাদেশি যুবক নিহত ।   ছবি: আরটিএনএন

রাশিয়ায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় যুবক মো. আব্দুর রহিম (৩০)। তিনি উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পুটিজানা নামাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জীবিকার সন্ধানে গত বছরের অক্টোবরে রাশিয়ায় যান রহিম। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, তিনি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। পরে জানা যায়, চলতি বছরের ৭ এপ্রিল তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। বিষয়টি পরিবারের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন তিনি।

স্বজনদের দাবি, এক দালালের মাধ্যমে ৪০ লাখ টাকা ও রুশ নাগরিকত্বের প্রলোভনে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন রহিম। এর আগে তিনি সাত বছর সিঙ্গাপুরে ছিলেন। দেশে ফেরার এক বছর পর আবার বিদেশে পাড়ি জমান।

পরিবার জানায়, সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় রহিমের বন্ধু লিমন দত্ত মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর জানান। লিমন নিজেও একই ক্যাম্পে রুশ সেনাসদস্য হিসেবে ছিলেন। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে একটি পা হারিয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পরে পরিবার জানতে পারে, গত ২ মে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় নিহত হন রহিম। ওই হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি ও এক নাইজেরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত হয়েছেন অন্তত চারজন।

নিহতের বাবা আজিজুল হক বলেন, ছেলে যে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, তা পরিবারকে জানায়নি। জানলে কখনো তাকে সেখানে যেতে দিতেন না। তিনি বলেন, “এখন শুধু চাই, ছেলের মরদেহটা দেশে আসুক। শেষবারের মতো মুখটা দেখতে চাই।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, রহিম শান্ত স্বভাবের ও পরিশ্রমী ছিলেন। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে বিদেশে গিয়েছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুটিজানা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আফরোজা আক্তার রেখা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার সুযোগ থাকলে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে নিহতের বাড়িতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুল হাসান মিলন। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।