কৃষক হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, সারাদেশ, হত্যা, কৃষক হত্যা, মামলা, আদালত, দায়রা জজ আদালত, মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড,
আদালতের রায়ের পরে আসামিদের কারাগারে নেয়া হচ্ছে।   ছবি: আরটিএনএন

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৪ সালে ময়মনসিংহের ফুলপুরে কৃষক আশ্রাব আলী হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার দুপুরে বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন- ফুলপুর উপজেলার দেওখালী গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে নূর হোসেন (৫৭), নূর হোসেনের ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (৩২) ও সোহরাব আলীর ছেলে সহিদুল (৩৭)। এছাড়া ইছব আলীর ছেলে সোহরাব আলী (৬২), সোহরাব আলীর স্ত্রী স্বরূপা খাতুন (৫৭) ও নূর হোসেনের স্ত্রী রেহেনা খাতুন (৫৪)কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বাদী ও আসামিরা প্রতিবেশী এবং তাদের সাথে জমি-জমা নিয়ে পূর্ব বিরোধ ছিল। ২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারি ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আশ্রাব আলীর ওপর চড়াও হয় এবং গালিগালাজ করে।

এক পর্যায়ে আসামি সোহরাব আলীর হুকুমে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কৃষক আশ্রাব আলীর ওপর হামলা চালিয়ে হত্যা করে। পরদিন নিহত আশ্রাব আলীর ছেলে জুলহাস উদ্দিন ছয়জনকে আসামি করে ফুলপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করে।

মামলার তদন্তে, ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা, আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে নূর হোসেন, সহিদুল ও উজ্জ্বল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে ত্রিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এই রায়ে অভিযুক্ত সোহরাব আলী, স্বরূপা খাতুন ও রেহানা খাতুনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আকরাম হোসেন এবং অ্যাডভোকেট এ.এইচ.এম. খালেকুজ্জামান আসামি পক্ষের মামলাটি পরিচালনা করেন।