রাজধানীর অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি তিতুমীর কলেজের একমাত্র খেলার মাঠটি এখন আর খেলাধুলার উপযোগী নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। মাঠের বেহাল অবস্থায় শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিপাতের পর পুরো মাঠ কাদা ও পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থার কারণে বর্ষা মৌসুমে মাঠটি ছোটখাটো জলাশয়ে পরিণত হয়। শুকনো মৌসুমে যেটি খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত হয়, বৃষ্টির সময় সেটি হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কারণ।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, জরুরি ভিত্তিতে মাঠের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, নিচু স্থান ভরাট এবং ড্রেনেজ অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রয়োজন।
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মোজাম্মেল হক শাকিল বলেন, তিতুমীর কলেজের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে মাঠ থাকলেও সেটির কোনো পরিচর্যা নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠটি পুকুর হয়ে যায়। ঘাস কাটার অবস্থাও খুব খারাপ। বছরে একবারও ঠিকমতো ঘাস কাটা হয় না। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এত বড় ক্যাম্পাসে ঘাস কাটার মেশিনও নেই। পানি যেন না জমে, সে জন্য মাটি ভরাট, উন্নতমানের ঘাস লাগানো এবং নিয়মিত পরিচর্যা করা জরুরি। এতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় আগ্রহ বাড়বে, পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়ে নতুন আশা নিয়ে কলেজে এসেছি। কিন্তু মাঠে ঢুকেই মনে হয়েছে এটি যেন কাদার রাজ্য। এত বড় কলেজে এমন অব্যবস্থা হতাশাজনক।
তিনি আরও বলেন, ফুটবল আর ক্রিকেট ছাড়া কলেজজীবন কল্পনা করা যায় না। অথচ জলাবদ্ধতার কারণে সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে আছে। বিকেলের সময়টাও আর কাজে লাগছে না। এতে আমরা শারীরিকভাবেও অনুৎসাহী হয়ে পড়ছি।
কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক মো. শামসুদ্দিন বলেন, আমি দায়িত্বে থাকলেও মাঠের সার্বিক বিষয় কলেজ প্রশাসন দেখে। আমি একাধিকবার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু মাঠ সংস্কারে এখনো পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, কলেজ থেকে ক্রীড়া খাতের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হয় না। সাত কলেজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া শিক্ষকদের কাজের জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম থাকলেও আমাদের কলেজে সেসবের ঘাটতি রয়েছে।
এ বিষয়ে কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আলেয়া আক্তার বলেন, মাঠ সংস্কারের বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে কাজ শুরু হতে দেরি হচ্ছে।
জানা গেছে, দুই থেকে তিন মাস আগে কলেজের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকাজ শুরু হলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!