খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স ইন বাংলাদেশ অ্যাকুয়াকালচার: ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস, ইমপ্লিকেশন্স অ্যান্ড ইন্টারভেনশন’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি (এফএমআরটি) ডিসিপ্লিন এবং ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে রবিবার (১৭ মে ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার আয়োজন করা হয়।
সকালে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা ও রপ্তানি আয়ের সঙ্গে মৎস্য ও চিংড়ি খাত নিবিড়ভাবে জড়িত। তবে বর্তমানে এই খাত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর)-এর মতো একটি নীরব কিন্তু গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিকের অযাচিত ও অপরিকল্পিত ব্যবহারের ফলে জলজ পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে উঠছে, যা রোগ নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের জলজ পণ্যের গ্রহণযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি আরও বলেন, এই সংকট শুধু স্বাস্থ্যগত নয়, বরং অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
উপাচার্য বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এএমআর-কে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ প্রেক্ষাপটে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় উপকূলীয় অঞ্চলে মৎস্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণার ধারাবাহিকতায় এএমআর, জলজ রোগতত্ত্ব, বায়োসিকিউরিটি ও টেকসই অ্যাকুয়াকালচার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে চিংড়ি খামারিদের জন্য গুড অ্যাকুয়াকালচার প্র্যাকটিসেস (জিএপি) ও বায়োসিকিউরিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ, জল ও পলিতে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাব নিয়ে গবেষণা এবং আধুনিক বায়োটেকনোলজির প্রয়োগে কাজ করছে। তিনি এএমআর মোকাবিলায় গবেষণা, সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও নীতিগত সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো. গোলাম হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ তারেক আরাফাত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সেমিনারে বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. গোলাম সরোয়ার, ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের ড. শফিক রহমান এবং ড. সাবরিনা হোসেন। তাঁদের আলোচনায় বাংলাদেশের জলজ খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের বর্তমান পরিস্থিতি, এর ঝুঁকি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক উঠে আসে। তারা গবেষণা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সেমিনারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!