আজ ঐতিহাসিক জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ দিবস। ১৯৫০ সালের এই দিনে তদানীন্তন পূর্ববঙ্গ আইনসভায় ‘পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন’ পাসের মাধ্যমে বাংলার কৃষকসমাজ দীর্ঘ শোষণ ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে নিজেদের জমির অধিকার ফিরে পাওয়ার পথ সুগম করে। পরবর্তীতে ১৯৫১ সালের ১৬ মে থেকে আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে শুরু করে।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে সেইসব শোষিত কৃষক, মজলুম জনতা এবং দূরদর্শী নেতৃবৃন্দকে, যারা উপমহাদেশে সামন্তবাদী ও ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে ঢাবি শিবির সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান এবং সেক্রেটারি কাজী আশিক বলেন, “জমিদারি উচ্ছেদ কেবল একটি প্রশাসনিক সংস্কার ছিল না, এটি ছিল এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, শ্রেণিবৈষম্য নিরসন এবং বাঙালি মুসলমানের আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বাঁকবদল। কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ ছিল মূলত বাঙালি মুসলমান সমাজকে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেওয়ার এক ঔপনিবেশিক কৌশল। এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার ফলে বাংলার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান কৃষকসমাজ তাদের পুরুষানুক্রমিক জমির মালিকানা হারিয়ে প্রজায় পরিণত হয়।
অন্যদিকে একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠীকে একচ্ছত্র জমিদারি ও রাজস্ব আদায়ের অধিকার দিয়ে এদেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় অমানবিক নিপীড়ন, খাজনার জুলুম ও সামাজিক বৈষম্য।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এই শোষণ কেবল অর্থনৈতিক ছিল না; এটি ছিল বাঙালি মুসলমানের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আত্মমর্যাদা হরণের এক সুদূরপ্রসারী নীলনকশা। ফলে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, হাজী শরীয়তউল্লাহর ফরায়েজী আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী রাজনৈতিক আন্দোলনসমূহের অন্যতম মূল সুর ছিল জনগণের জমি, ঈমান ও আত্মমর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের প্রজাকুল রক্ষা আন্দোলন, নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি গঠন এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও খাজা নাজিমুদ্দীনের নেতৃত্বে মুসলিম লীগের ঐতিহাসিক ম্যান্ডেটের ফলেই শেষ পর্যন্ত এই অঞ্চলে জমিদারি প্রথার অবসান ঘটে। এটি ছিল শোষিত বাঙালি মুসলমানের দীর্ঘ দেড়শ বছরের বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক বিজয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে ১৯৪৭-পরবর্তী ভূমি সংস্কার এবং এই ভূখণ্ডের অধিকার আদায়ের গৌরবময় ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরা হয় না। ইতিহাস বিকৃত বা আড়াল করার প্রবণতা নতুন প্রজন্মকে তাদের শিকড় ও সংগ্রামের ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করছে। কৃষক-জনতার দীর্ঘ আত্মত্যাগের সত্য ইতিহাসকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া আজ সময়ের দাবি।
ঐতিহাসিক এই দিবস উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জাতীয় পর্যায়ে আরও বেশি তথ্যনির্ভর আলোচনা, গবেষণা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।
তারা বলেন, এসব উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করবে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!