সঠিক পরিকল্পনা করলে তুলনামূলক কম খরচে সিউল, বুসানসহ দেশটির জনপ্রিয় পর্যটনস্থান ঘুরে দেখা সম্ভব।
সঠিক পরিকল্পনা করলে তুলনামূলক কম খরচে সিউল, বুসানসহ দেশটির জনপ্রিয় পর্যটনস্থান ঘুরে দেখা সম্ভব।   ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়া ভ্রমণ অনেকের কাছেই ব্যয়বহুল মনে হলেও সঠিক পরিকল্পনা করলে তুলনামূলক কম খরচে সিউল, বুসানসহ দেশটির জনপ্রিয় পর্যটনস্থান ঘুরে দেখা সম্ভব। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া ঘুরে আসা ভ্রমণপ্রেমী জুনায়েদ আজিম চৌধুরী খরচ কমানোর ১০টি কার্যকর উপায় তুলে ধরেছেন।

নিজেই ভিসা করলে খরচ কম

দক্ষিণ কোরিয়ার ভিসা নিজে আবেদন করলে প্রায় ৫ হাজার টাকার মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো এ জন্য অতিরিক্ত সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সেবা ফি নেয়।

ভিসার আবেদন করতে South Korea Visa Portal থেকে আবেদনপত্র পূরণ করে প্রিন্ট নিতে হয়। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ঢাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসে জমা দিতে হয়। তিন বছরের কর রিটার্নের কাগজ ভিসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আগেভাগে টিকিট কাটলে মিলবে কম ভাড়া

ঢাকা থেকে সিউল রুটে উড়োজাহাজের টিকিট সবচেয়ে বড় খরচগুলোর একটি। সাধারণত ২ থেকে ৪ মাস আগে বুকিং দিলে কম ভাড়া পাওয়া যায়। চেরি ফুলের মৌসুম কিংবা শরৎকালে টিকিটের দাম বেড়ে যায়।

অফ সিজনে রিটার্ন টিকিট ৬০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও ব্যস্ত মৌসুমে তা ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

সিউল ঘোরার বিশেষ কার্ড

সিউলে কম খরচে ঘোরার জন্য জনপ্রিয় একটি ব্যবস্থা হলো ‘ডিসকভার সিউল পাস’। এটি দিয়ে বিমানবন্দর থেকে শহরে যাতায়াত, বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে প্রবেশ এবং ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া যায়। এ ছাড়া নির্দিষ্ট খরচে কয়েক দিন সীমাহীনভাবে মেট্রোরেল ও নগর বাস ব্যবহার করা যায়।

কোথায় থাকলে খরচ কমবে

মিয়ংডং এলাকায় যোগাযোগ সুবিধা ভালো হলেও আবাসন খরচ বেশি। তুলনামূলক কম খরচে থাকতে চাইলে হংডে বা ডংডাইমুন এলাকা বেছে নেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে বুসান শহরে সমুদ্রসৈকতের পাশে থাকতে চাইলে হেউন্ডে বিচ ভালো বিকল্প।

পানি ও খাবারে সাশ্রয়

দেশটির বিভিন্ন হোটেল, মেট্রোরেল স্টেশন ও জনসমাগমস্থলে বিনা মূল্যে পানির ব্যবস্থা রয়েছে। তাই সঙ্গে পানির বোতল রাখলে অতিরিক্ত খরচ কমানো যায়।

রেস্টুরেন্টে এক বেলার খাবারে ১৫ থেকে ৩০ হাজার কোরীয় ওন খরচ হলেও পথের খাবারের বাজারগুলোতে অনেক কম দামে জনপ্রিয় কোরীয় খাবার পাওয়া যায়।

যাতায়াতে মেট্রোরেল ও বাস সাশ্রয়ী

দূরপাল্লার যাত্রায় দ্রুতগতির ট্রেন আরামদায়ক হলেও তুলনামূলক ব্যয়বহুল। কম খরচে চলাচলের জন্য দূরপাল্লার বাস ভালো বিকল্প হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্যাক্সির চেয়ে মেট্রোরেল ও নগর বাস ব্যবহার করাই বেশি সাশ্রয়ী।

কেনাকাটায় সাশ্রয়ী বিপণিবিতান

ডাইসো থেকে কম দামে প্রয়োজনীয় নানা জিনিস কেনা যায়। ভ্রমণসামগ্রী, ছাতা, পানির বোতল বা ছোট উপহার তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়।

কাছাকাছি জায়গা একদিনে ঘুরুন

একদিনে কাছাকাছি দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরলে সময় ও যাতায়াত খরচ দুটোই কমে যায়। এতে অল্প সময়ে বেশি জায়গা দেখা সম্ভব হয়।

বিনা মূল্যের দর্শনীয় স্থান ঘুরুন

হ্যান রিভার পার্ক, নামসান পার্ক কিংবা গামচিওন কালচার ভিলেজ-এর আশপাশের অনেক জায়গা বিনা মূল্যে ঘুরে দেখা যায়।

আগে থেকেই প্রয়োজনীয় অ্যাপ নামিয়ে রাখুন

দক্ষিণ কোরিয়ায় চলাচলের জন্য স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় মানচিত্র ও মেট্রোরেলভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করলে সহজে পথ খুঁজে পাওয়া যায়। এতে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত খরচও কমে।