১২৬ রান করে ফিরে গেলেন লিটন কুমার দাস।
১২৬ রান করে ফিরে গেলেন লিটন কুমার দাস।   ছবি: লিটন দাসের ফেসবুক পেইজ থেকে

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও একপ্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন লিটন দাস। তাঁর ব্যাট থেকেই আসে দলের সর্বোচ্চ ১২৬ রান। তবে অন্য ব্যাটসম্যানদের কেউ বড় ইনিংস খেলতে না পারায় বড় সংগ্রহ গড়া হয়নি স্বাগতিকদের।

শুরুটা অবশ্য খুব একটা স্বস্তির ছিল না বাংলাদেশের। ওপেনিং জুটিতে দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তিনি ২৯ রান করে ফিরলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তরুণ ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসানও ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু ২৬ রানের বেশি এগোতে পারেননি তিনি।

মিডল অর্ডারে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের দিকেও তাকিয়ে ছিল দল। তবে তিনিও থেমে যান ২৩ রানে। ফলে একের পর এক উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন ধুঁকছিল, তখন লিটন দাসই হয়ে ওঠেন দলের ভরসা। পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে দারুণ সব শটে রান তুলতে থাকেন তিনি। ধৈর্য ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মিশেলে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সেঞ্চুরি তুলে নেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।

লিটনের ১২৬ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল চমৎকার কিছু বাউন্ডারি ও দৃঢ় মানসিকতায়। সঙ্গীদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন না পেলেও তিনি একাই দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন। শেষদিকে টেলএন্ডারদের নিয়ে কিছু মূল্যবান রানও যোগ করেন তিনি।

পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন খুররম শাহজাদ। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বারবার আঘাত হেনে তিনি ৪টি উইকেট শিকার করেন। তাঁকে ভালোভাবে সহায়তা করেন হাসান আলী, যিনি নেন ২টি উইকেট। এছাড়া অন্য বোলাররাও আঁটসাঁট বোলিং করে বাংলাদেশের রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন।

২৭৮ রানের এই সংগ্রহ এখন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেটি নির্ভর করবে বাংলাদেশের বোলারদের পারফরম্যান্সের ওপর। সিলেটের উইকেটে শুরু থেকেই কিছুটা বোলিং সহায়তা দেখা গেছে। তাই দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারলে ম্যাচে ভালো অবস্থান তৈরি করার সুযোগ থাকবে স্বাগতিকদের সামনে।