বিনা নোটিশে ২০ কোটি উধাও, নারী ক্রীড়া সংস্থার তদন্ত দাবি
বিনা নোটিশে ২০ কোটি উধাও, নারী ক্রীড়া সংস্থার তদন্ত দাবি   ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার জন্য বরাদ্দ ২০ কোটি টাকার অনুদান বাতিলের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্বনোটিশ ছাড়াই নারীদের ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য দেওয়া এই অর্থ ফেরত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর ধানমন্ডির রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার সভানেত্রী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, “আমাদের পেটে লাথি মারা হয়েছে, পিঠে ছুরি আর বুকে আঘাত করা হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, নারীদের খেলাধুলার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ প্রত্যাহার করে দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।

সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ২০২২ সালের এপ্রিলে ১০ কোটি টাকা এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরও ১০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়। মোট ২০ কোটি টাকা সোনালী ব্যাংকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় করপোরেট শাখায় এফডিআর হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

চুক্তি অনুযায়ী, এফডিআরের লভ্যাংশের ৮০ শতাংশ নারী ক্রীড়ার উন্নয়নে ব্যয় এবং বাকি ২০ শতাংশ মূল তহবিলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। সংস্থাটি এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা লভ্যাংশ পেয়েছে বলেও জানানো হয়।

তবে গত বছরের আগস্টের পর থেকে লভ্যাংশ পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে গত ৬ মে মৌখিকভাবে জানানো হয়, অনুদানের পুরো অর্থ ফেরত নেওয়া হয়েছে।

সভানেত্রী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, অনুদান দেওয়ার শর্তে অর্থ ফেরত নেওয়ার কোনো বিধান ছিল না। এ সিদ্ধান্ত নারী সমাজের জন্য “কঠিন আঘাত” বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে অনুদান বাতিলের সিদ্ধান্ত কীভাবে এবং কার নির্দেশে নেওয়া হয়েছে, তা তদন্তে নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নারী ক্রীড়ার স্বার্থে দ্রুত অনুদানের অর্থ পুনর্বহালের আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি।