আইসিসির অর্থায়ন পাবে না কানাডা।
আইসিসির অর্থায়ন পাবে না কানাডা।   ছবি: ক্রিকেট সিএ

গভর্ন্যান্স ও আর্থিক তদারকিতে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে ক্রিকেট কানাডার অর্থায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আগামী ছয় মাস আইসিসি থেকে কোনো ধরনের তহবিল পাবে না দেশটির ক্রিকেট বোর্ড।

অ্যাসোসিয়েট সদস্য দেশ হিসেবে ক্রিকেট কানাডার আয়ের বড় একটি অংশ আসে আইসিসির অনুদান থেকে। ২০২৪ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সংস্থাটির মোট ৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার আয়ের মধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারই এসেছে আইসিসির তহবিল থেকে। ফলে আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে ক্রিকেট কানাডার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

তবে আপাতত জাতীয় দলের ক্রিকেট কার্যক্রম বা হাই-পারফরম্যান্স প্রোগ্রামে এই নিষেধাজ্ঞার সরাসরি প্রভাব পড়বে না বলে জানা গেছে।

কানাডার অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ফিফথ এস্টেট–র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিকেট কানাডার বিরুদ্ধে আইসিসির নীতিমালা লঙ্ঘন, দুর্বল প্রশাসন এবং আর্থিক তদারকির অভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

সম্প্রতি একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছে ক্রিকেট কানাডা। সর্বশেষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ ঘিরে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট তদন্ত চালাচ্ছে। এ ছাড়া সাবেক কোচ খুররম চৌহানের একটি ফাঁস হওয়া অডিওতে অভিযোগ ওঠে, বোর্ডের কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা জাতীয় দলে নির্দিষ্ট খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত করতে চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। ওই অডিওতে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেষ্টার অভিযোগও উঠে আসে।

গত মাসে আইসিসির অ্যান্টি–ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের অন্তর্বর্তী প্রধান অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ বলেছিলেন, সদস্য দেশগুলোর গভর্ন্যান্স–সংক্রান্ত বিষয়গুলো আইসিসির সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয়।

এদিকে প্রশাসনিক জটিলতাও বেড়েছে ক্রিকেট কানাডায়। সাবেক প্রধান নির্বাহী সালমান খানের নিয়োগ ও পরে অপসারণ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। তাঁর বিরুদ্ধে চুরি ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করেছে ক্যালগেরি পুলিশ। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

ক্রিকেট কানাডার মিডিয়া ম্যানেজার জিমি শর্মা এক বিবৃতিতে বলেছেন, বর্তমান বোর্ড আগের প্রশাসনের সমস্যাগুলো উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনিক, আর্থিক ও কমপ্লায়েন্স–সংক্রান্ত সব ঘাটতি দূর করতে বর্তমান বোর্ড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।