নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মি।
নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মি।   ছবি: সংগৃহীত

আইনগতভাবে আগের বৈবাহিক সম্পর্কের বিচ্ছেদ সম্পন্ন না করেই নতুন করে বিয়ের অভিযোগে করা মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তাঁর স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ১০ জুন।

বুধবার (৬ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের এই দিন ধার্য করেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়। অন্যদিকে নাসিরের পক্ষে আজিজুর রহমান দুলু এবং তামিমার পক্ষে মোসলেহ উদ্দিন জসীম যুক্তি তুলে ধরে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি দাবি করে খালাস চান।

শুনানির সময় নাসির ও তামিমা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমার সঙ্গে রাকিব হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সেই বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নাসির ও তামিমা বিয়ে করেন।

২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি রাকিবের নজরে আসে। পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির, তামিমা ও তামিমার মা সুমি আক্তারকে আসামি করে আদালতে প্রতিবেদন দেন তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান।

পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। তবে সুমি আক্তারকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

একই বছরের ৬ মার্চ অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরু। অপরদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন বাদীপক্ষ। ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালত উভয় আবেদনই খারিজ করে দেন।

এরপর ২০২৩ সালের ২০ মার্চ বাদী রাকিবের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

সবশেষে, গত ১০ মার্চ আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।