৫ ম্যাচে ৫.৪৪ ইকোনমি রেটে ৯ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেন নাহিদ রানা।
৫ ম্যাচে ৫.৪৪ ইকোনমি রেটে ৯ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেন নাহিদ রানা।   ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ফাইনালে দারুণ এক জয়ে শিরোপা জিতেছে পেশোয়ার জালমি। রবিবার (৩ মে) ফাইনালে হায়দরাবাদ কিংসের বিপক্ষে ৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে ৯ বছরের ট্রফি খরা ঘুচিয়েছে দলটি।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রানাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন পেশোয়ারের মালিক জাভেদ আফ্রিদি। ফাইনালে অ্যারন হার্ডি অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হলেও নাহিদের অবদান ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন এই তরুণ পেসার। পুরো টুর্নামেন্টেই দুর্দান্ত ইকোনমি রেটে বোলিং করে ফাইনালে দল তুলতেও বড় ভূমিকা ছিল তার।

দারুণ বোলিংয়ের জন্য ‘সুপার পাওয়ার অব দ্য ম্যাচ’ স্বীকৃতি পান নাহিদ। অথচ নিউজিল্যান্ড সিরিজের মাঝপথে দেশে ফেরার কারণে তার আর পিএসএলে খেলার কথা ছিল না। তবে ফাইনালের গুরুত্ব বিবেচনায় বিসিবি বিশেষ অনুমতি দেয়। বোর্ড প্রধান তামিম ইকবালকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাভেদ আফ্রিদিও।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নাহিদ নিজেকে প্রমাণ করেছেন দারুণভাবে। ৫ ম্যাচে ৫.৪৪ ইকোনমি রেটে ৯ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেন তিনি।

লাহোরে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৮ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান করে হায়দরাবাদ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন সাইয়ুম। নাহিদ রানা ২২ রানে শিকার করেছেন ২ উইকেট।

ছোট লক্ষ্যে নেমে শুরুতে ধাক্কা খায় পেশোয়ার। প্রথম ওভারে মোহাম্মদ হারিস ও বাবর আজমকে এক বলের ব্যবধানে ফেরান মোহাম্মদ আলি। দারুণ ফর্মে থাকা বাবর গোল্ডেন ডাক মারেন। হারিস করেন ৬ রান।

৭ রানে ২ উইকেট পড়ার পর রানের গতি বাড়াতে গিয়ে ফের হোঁচট খায় পেশোয়ার। পাওয়ার প্লেতেই ৭ রানের ব্যবধানে কুশল মেন্ডিস ও মাইকেল ব্রেসওয়েলকে হারায় তারা। এরপর এরন হার্ডি ও আব্দুল সামাদের অপরাজিত জুটিতে জয় দেখছিল পেশোয়ার। কিন্তু সামাদকে ৪৮ রানে ফিরিয়ে ৮৫ রানের জুটি ভেঙে দেন আলি। ফারহান ইউসুফ চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন। ১৫.২ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩০ রান করে পেশোয়ার।

হার্ডি ৩৯ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৫৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।

ম্যাচ শেষে নাহিদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন ম্যাচসেরা এরন হার্ডি। তিনি বলেন, “সে মাত্র তিন দিন আগে এসে এমন গতিতে বল করেছে, যা ব্যাটারদের জন্য ভয়ঙ্কর ছিল। করাচিতে সে ১৫১ কিমি গতিতে বল করেছে। এক সপ্তাহ পর তার টেস্ট ম্যাচ আছে—আমার মনে হয় বাবর আজম হয়তো তার মুখোমুখি হতে চাইবে না!”

হার্ডি আরও বলেন, নাহিদের মধ্যে বড় মাপের খেলোয়াড় হওয়ার সব গুণ আছে এবং বিশ্বের যেকোনো লিগেই সে সহজেই জায়গা করে নিতে পারবে।

ফাইনাল জয়ের পর নাহিদ বলেন, “আমি এটি সত্যিই উপভোগ করেছি। গত বছর খেলতে পারিনি, তবে এবার সুযোগ পেয়ে দলের জন্য পারফর্ম করতে পেরে ভালো লাগছে।”

নিউজিল্যান্ড সিরিজ চলাকালীনই পেশোয়ার জালমি নাহিদকে ফাইনালের জন্য চেয়েছিল। বিসিবির অনুমতিতে তিনি যোগ দেন এবং সেই ম্যাচেই নিজের সেরাটা দিয়ে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন। তার আগুনঝরা বোলিংয়ে কম রানে আটকে যায় প্রতিপক্ষ, আর ৫ উইকেটের জয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে নেয় পেশোয়ার জালমি।