বিশ্ব ফুটবলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে ফিফা। পেশাদার ক্লাব ফুটবলে একাডেমি থেকে উঠে আসা তরুণদের সুযোগ বাড়াতে নতুন একটি নিয়ম প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি ম্যাচে অন্তত একজন ‘হোমগ্রোন’ বা ক্লাবের নিজস্ব তরুণ খেলোয়াড়কে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে।
গত মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত এক সভায় ফিফা কাউন্সিল এ বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে আগামী এক বছরের মধ্যে একটি চূড়ান্ত পরিকল্পনা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফিফার এই চিন্তার মূল উদ্দেশ্য, ক্লাবগুলো যাতে শুধু বিদেশি বা দামী খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা প্রতিভাকেও গুরুত্ব দেয়। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি সিনিয়র দলে অনূর্ধ্ব-২০ বা অনূর্ধ্ব-২১ বয়সভিত্তিক অন্তত একজন খেলোয়াড়কে পুরো ম্যাচে খেলানো বাধ্যতামূলক হতে পারে।
বর্তমানে ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-এ ২৫ জনের স্কোয়াডে নির্দিষ্টসংখ্যক ‘স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত’ খেলোয়াড় রাখার নিয়ম আছে। তবে তাদের ম্যাচে খেলানো বাধ্যতামূলক নয়।
উয়েফা-র নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২১ বছর বয়সের মধ্যে কোনো খেলোয়াড় নিজ ক্লাব বা একই দেশের অন্য ক্লাবে অন্তত তিনটি পূর্ণ মৌসুম কাটালে তাকে ‘হোমগ্রোন’ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু ফিফার নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে শুধু স্কোয়াডে রাখলেই চলবে না-পুরো ৯০ মিনিট মাঠে রাখাও বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে।
নিয়মটি চালু হলে ক্লাবগুলোর কৌশলে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। রিয়াল মাদ্রিদ বা লিভারপুলের মতো দল, যারা বিদেশি তারকাদের ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হতে পারে।
অন্যদিকে বার্সেলোনা বা বেনফিকার মতো ক্লাব, যারা নিয়মিত একাডেমির খেলোয়াড়দের সুযোগ দেয়, তারা তুলনামূলক সুবিধায় থাকতে পারে। এতে করে দলবদল বাজারেও ‘হোমগ্রোন’ খেলোয়াড়দের মূল্য বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই উদ্যোগকে অনেকেই তরুণদের বিকাশের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। কেউ কেউ প্রস্তাব দিয়েছেন, নির্দিষ্ট বয়সসীমার পরিবর্তে যেকোনো বয়সের হোমগ্রোন খেলোয়াড় রাখার সুযোগ রাখা যেতে পারে।
ফিফা কাউন্সিলের আলোচনায় প্রাথমিক সমর্থন মিললেও, সামনে এ নিয়ে আরও বিস্তৃত বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ‘হোমগ্রোন’ শব্দটির একটি সর্বজনীন সংজ্ঞা নির্ধারণ করা-এটাই হতে যাচ্ছে আলোচনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!