২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগে ম্যাচের টিকিট, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগে ম্যাচের টিকিট, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগে ম্যাচের টিকিট, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ব্যয় বৃদ্ধি অনলাইন প্রতারণা, জালিয়াতি এবং মানবপাচারের মতো অপরাধের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফিডজাইয়ের প্রধান নির্বাহী ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা নুনো সেবাস্তিয়াও রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলোতে প্রতারক চক্র সক্রিয় থাকে। তবে এবারের বিশ্বকাপে টিকিটের মূল্য অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি হওয়ায় ঝুঁকিও বেড়েছে।

তার মতে, বিশ্বকাপের মতো ইভেন্টে উচ্চ ব্যয়ের কারণে অনেক দর্শক সাশ্রয়ী বিকল্প খুঁজতে গিয়ে প্রতারণার ফাঁদে পড়তে পারেন। সাধারণ সমর্থকদের বড় অংশই তুলনামূলকভাবে উচ্চ আয়ের নন, ফলে সস্তা টিকিট বা ভ্রমণ ব্যবস্থার প্রলোভনে তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, বড় ক্রীড়া আসরগুলো প্রতারকদের জন্য সুযোগ তৈরি করে। অনেক সময় এসব অপরাধ আন্তর্জাতিক সংগঠিত চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যাদের কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সমর্থনও থাকতে পারে।

চলতি মাসে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী সাড়ে ২৮ হাজারের বেশি সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর বড় অংশই টিকিট, ভ্রমণ ও অনলাইন জালিয়াতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

নুনো সেবাস্তিয়াও সতর্ক করে বলেন, কিছু অঞ্চলে সাইবার অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক এতটাই বিস্তৃত যে সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কখনও কখনও মানবাধিকার লঙ্ঘনও জড়িয়ে থাকে—বিশেষ করে জোরপূর্বক শ্রম ও কল সেন্টারভিত্তিক প্রতারণার ক্ষেত্রে।

এদিকে মানবপাচার ঝুঁকির দিকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সুপার বোল ইভেন্ট চলাকালে মানবপাচারবিরোধী অভিযানে বহু সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার এবং কয়েক ডজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।

বিশ্বকাপ ঘিরেও একই ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতারণা ও পাচার চক্র দমন করতে আন্তর্জাতিক সমন্বিত নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি।