সিরিজ জেতার লড়াইয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড।
সিরিজ জেতার লড়াইয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড।   ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে এখনো কাটেনি পানিসংকট। ওয়াসার পানি নিয়মিত না পাওয়ায় মাঠ ভেজানো যাচ্ছে না, বৃষ্টির অভাবে সবুজ ঘাসও প্রায় উধাও। আউটফিল্ডের কোথাও বাদামি, কোথাও ধূসর—দৃষ্টিকটু এক চিত্রই চোখে পড়ছে।

তবে মজার বিষয়, মাঠের তুলনায় উইকেটেই বরং কিছুটা সবুজের আভা আছে। সেটি কাগজে-কলমে পেসারদের জন্য সহায়ক হওয়ার কথা হলেও এই মাঠের ঐতিহ্য ভিন্ন কথা বলে। চট্টগ্রামের এই উইকেট বরাবরই ব্যাটসম্যানদের স্বর্গ হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালে এখানেই ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল তুলেছিল ৪০০ রান। বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শন টেইট মনে করেন, উইকেটের চরিত্র এখনো খুব একটা বদলায়নি।

মিরপুরে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ছিল দুই রকম উইকেট—প্রথমটি মন্থর, দ্বিতীয়টিতে কিছুটা ঘাস ছিল। তবে দুই ম্যাচেই একটি জায়গায় মিল ছিল-বাংলাদেশের লড়াইয়ের মূল ভরসা ছিলেন পেসাররা। প্রথম ওয়ানডেতে শরিফুল ইসলাম-এর প্রতিরোধ, আর দ্বিতীয় ম্যাচে নাহিদ রানা-র একক নৈপুণ্যে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে যায়।

আজ চট্টগ্রামে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে, যা অলিখিত ফাইনালে রূপ নিয়েছে। এই ম্যাচেও বাংলাদেশের আশা পেসারদের ঘিরেই। ব্যাটসম্যানরা এখনো বড় ইনিংস খেলতে পারছেন না, স্পিনার রিশাদ হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজও সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেননি।

তবে পরিসংখ্যান বলছে, পেসারদের ওপর ভরসা রাখার যথেষ্ট কারণ আছে। গত চার বছরে এই মাঠে খেলা ৮টি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের নেওয়া ৬৫ উইকেটের মধ্যে ৪০টিই পেসারদের, গড় ৫.৪৯।

বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর—ইনজুরির কারণে প্রথম দুই ম্যাচ মিস করা মুস্তাফিজুর রহমান নেটে দীর্ঘ সময় বোলিং করেছেন এবং খেলতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন কোচ শন টেইট। তবে তিনি দলে ফিরলে একাদশ থেকে কে বাদ পড়বেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

টেইটের বিশ্বাস, পেসাররা আবারও নিজেদের প্রমাণ করবেন। বিশেষ করে নাহিদ রানা এখন দলের বড় অস্ত্র। গত ম্যাচে ঘণ্টায় ১৪০ কিমি গতিতে ধারাবাহিক বোলিং করে তিনি পাঁচ উইকেট নেন। ম্যাচের আগে তাঁকে নিয়ে কিছুটা ইনজুরি শঙ্কা থাকলেও বিশ্রামের ইঙ্গিত দেননি কোচ; বরং রসিকতা করে বলেছেন, নাহিদ না খেললে প্রতিপক্ষই খুশি হবে।

২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য। তাই এই ম্যাচে সেরা কম্বিনেশন নিয়েই নামতে চায় দল।

অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল তারকা ক্রিকেটারদের ছাড়াই সিরিজ খেলছে, তবুও জয়ের লক্ষ্য তাদের স্পষ্ট। বাংলাদেশে সিরিজ জয় তাদের জন্য বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, কোনো এক্সপেরিমেন্ট ছাড়াই আজ নিজেদের সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামতে চাইবে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের এই ম্যাচে মূল লড়াইটা হতে পারে বাংলাদেশের পেসারদের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের। তবে জিততে হলে ব্যাটসম্যানদেরও জ্বলে উঠতে হবে। ঘরের মাঠে টানা তিন সিরিজ জয়ের লক্ষ্য পূরণে সম্মিলিত পারফরম্যান্সই হতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।