ইতালিয়ান ফুটবল শিবিরে কালো ঝড়।
ইতালিয়ান ফুটবল শিবিরে কালো ঝড়।   ছবি: সংগৃহীত

ইতালিয়ান ফুটবলের কিংবদন্তি গোলরক্ষক জানলুইজি বুফন জাতীয় দলের 'হেড অফ ডেলিগেশন' (দলীয় প্রধান প্রতিনিধি) পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার এই আকস্মিক বিদায়ে ফুটবল বিশ্বে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গুঞ্জন উঠেছে, সাবেক সতীর্থ জেন্নারো গাত্তুসোও হয়তো একই পথ অনুসরণ করতে যাচ্ছেন।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে বুফন দলের অভিভাবক হিসেবে ড্রেসিংরুম ও ফেডারেশনের মধ্যে সমন্বয়কের কাজ করতেন। তার চলে যাওয়া দলের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধাক্কা।

ইতালিয়ান ফুটবলের এই সংকটের মূলে রয়েছে তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স। চারবারের চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও তারা টানা দুইবার বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে পারেনি। ২০১৮ (রাশিয়া বিশ্বকাপ) প্লে-অফে সুইডেনের কাছে হেরে বাদ পড়ে।  ২০২২ (কাতার বিশ্বকাপ) ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েও প্লে-অফে উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয়।

ইতালির হয়ে ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী বুফন বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘আমাকে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল, যেন সবাই বিষয়টা নিয়ে ভাবতে পারে। প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, আমি নিজেকেও দায়িত্বশীলভাবে একই কাজ করার ক্ষেত্রে স্বাধীন মনে করছি। কারণ, জেনারো গাত্তুসো ও তাঁর কোচিং স্টাফের সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যেই দলীয় সংহতির দিক থেকে অনেক কিছু গড়ে তুলতে পেরেছিলাম বলে আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি। কিন্তু জাতীয় দলের মূল লক্ষ্য ছিল ইতালিকে আবার বিশ্বকাপে ফেরানো, আমরা সেটাই করতে পারিনি।’ 

২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ইতালি দলের পোস্টে অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন বুফন। দেশের হয়ে রেকর্ড ১৭৬টি ম্যাচ খেলা বুফন গাত্তুসোর ইতালির কোচ পদে নিয়োগ পাওয়ায় ভূমিকা রাখেন। কিন্তু ইতালি ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিরতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইউরোপের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গাত্তুসোর কোচ পদে না থাকার সম্ভাবনাই খুব বেশি।


ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গাত্তুসোর জায়গায় চারজন কোচের নাম উঠে এসেছে আলোচনায়—রবার্তো মানচিনি, আন্তোনিও কন্তে, মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি ও পেপ গার্দিওলা। এই দৌড়ে মানচিনি এগিয়ে বলে জানিয়েছে ‘লা গাজেত্তা দেয়ো স্পোর্ত।’ মানচিনির হাত ধরে ২০২০ ইউরো জিতেছে ইতালি।


টানা দুই বিশ্বকাপের এই ব্যর্থতার পর বুফন ও গাত্তুসোর মতো মহাতারকাদের সরে দাঁড়ানো ইতালির ফুটবল পুনর্গঠনকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।