লিওনেল স্কালোনি
লিওনেল স্কালোনি।   ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক দ্বৈরথ আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে আটলান্টার সুবিশাল স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষ ছিল সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে ঠাসা। মিডিয়া সেন্টার থেকে প্রেস কনফারেন্স কক্ষে যেতেই যেখানে আধ ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়, সেই কানায় কানায় পূর্ণ সংবাদ সম্মেলন কক্ষে অবধারিতভাবেই উঠে এলো দূর দেশের এক জনপদের নাম— বাংলাদেশ।

আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনিকে যখন কালকের ম্যাচ ও দুই দলের ঐতিহাসিক দ্বৈরথ নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই আধ ঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনের একেবারে শেষ প্রশ্নটি করার সুযোগ পান এক বাংলাদেশি সাংবাদিক। টেকনিক্যাল কোনো বিষয় নয়, তিনি স্কালোনির কাছে জানতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার বিপুল সমর্থনের ব্যাপারে।

বাংলাদেশের মানুষের আর্জেন্টিনা প্রীতি ও উন্মাদনার কথা শুনে বরাবরের মতোই মুগ্ধতা প্রকাশ করেন আলবিসেলেস্তেদের হেড কোচ। লিওনেল স্কালোনি বলেন, আসলে আমরা বিস্মিত, এত দূর থেকে বাংলাদেশ আর্জেন্টিনাকে যেভাবে সমর্থন করে আসছে। বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে অনেকে। এটা আসলেই অনেক অসাধারণ ও সুন্দর বিষয়। আশা করি আমরা আগামীকাল ভালো কিছু উপহার দিতে পারব।

এদিকে ইংল্যান্ড দলের বেসক্যাম্প ছিল কানসাসে। সেখানে দুপুরে অনুশীলন শেষ করে তারা আটলান্টার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। আটলান্টা সময় বিকেল ছয়টায় ইংল্যান্ডের প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা আধ ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়। আর এই বিলম্বের কারণেই আর্জেন্টিনার সংবাদ সম্মেলন শুরু হতেও কিছুটা দেরি হয়।

বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ফুটবল সমর্থন দীর্ঘদিনের পুরোনো ঐতিহ্য। তবে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে এই উন্মাদনা বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে। সে সময় খোদ আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি নিজেই বাংলাদেশের সমর্থকদের উন্মাদনা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। চলমান এই টুর্নামেন্টেও আর্জেন্টিনার ম্যাচের মিক্সড জোনে গোলরক্ষক এমিলিয়েনো মার্টিনেজ এবং সংবাদ সম্মেলনে ব্রুনো গিমারেস বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলেছেন।

বাংলাদেশ ফুটবল বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ না নিলেও, এ দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীর নিঃশর্ত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থন বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিয়ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। আর এভাবেই মাঠে না খেলেও প্রতিবার বিশ্বকাপের একটি অনবদ্য অংশ হয়ে ওঠে লাল-সবুজের বাংলাদেশ।