ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।   ছবি : সংগৃহীত

যোগ্যতা ও নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে সার ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। তাঁর দাবি, দলীয় নেতাকর্মী ও স্বজনদের ডিলারশিপ দেওয়ার কারণে কৃষকেরা সারসংকটে পড়ছেন। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাবের অভিযোগ তুলে ক্ষমতাসীনদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব অভিযোগ করেন সাদিক কায়েম।

স্ট্যাটাসে তিনি পঞ্চগড়ে কৃষকের কাছ থেকে কম দামে লাউ বিক্রি হওয়া এবং ঢাকার খুচরা বাজারে একই পণ্যের বেশি দামের বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, পঞ্চগড়ে এক টাকায় চারটি লাউ বিক্রি করছেন কৃষকেরা। অথচ ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতিটি লাউয়ের দাম ৪০ টাকার বেশি। উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে দামের এই বড় ব্যবধানের পেছনে সিন্ডিকেটের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাদিক কায়েমের অভিযোগ, একদিকে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে কৃষকেরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে কৃষকদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, কৃষকদের প্রকৃত স্বার্থ রক্ষায় বাজারব্যবস্থার অনিয়ম ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

সারের ডিলারশিপ নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন ডাকসুর এই ভিপি। তিনি দাবি করেন, সারাদেশে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি ও যোগ্যতা উপেক্ষা করে দলীয় নেতাকর্মী এবং আত্মীয়স্বজনদের কাছে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে একেকটি ডিলারশিপ বিক্রি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি।

সাদিক কায়েমের ভাষ্য, সারসংকট ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কৃষকেরা চাপে রয়েছেন। অন্যদিকে বাজারে বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। এ পরিস্থিতিতে কৃষক, ভোক্তা ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় কথিত সিন্ডিকেট ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তবে সার ডিলারশিপ বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের বক্তব্য বা অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।