রনির সঙ্গে বসতে আমার অস্বস্তি আছে: ঢাবি শিক্ষক খোরশেদ
রনির সঙ্গে বসতে আমার অস্বস্তি আছে: ঢাবি শিক্ষক খোরশেদ   ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) একটি টকশোতে রেজাউল করিম রনিকে সহ-আলোচক হিসেবে রাখায় আপত্তি জানিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোর কথা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. খোরশেদ আলম।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা জানান।

স্ট্যাটাসে খোরশেদ আলম লেখেন, কিছুদিন আগে সংবাদপত্র বিশ্লেষণবিষয়ক একটি টকশোতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে প্রথমে রাজি হয়েছিলেন তিনি। তবে সহ-আলোচক হিসেবে রেজাউল করিম রনির নাম শুনে তিনি আপত্তি জানান।

তিনি লেখেন, ‘কারণ, রনির সঙ্গে বসতে আমার অস্বস্তি আছে! আয়োজককে বললাম, রনি থাকলে আমি যাব না। তারা শেষ পর্যন্ত রনিকে রেখে আমাকে বাদ দিলেন! কেবল বাদই দিলেন না, রনির একক প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করলেন!’

বিটিভির আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন

স্ট্যাটাসে বিটিভির টকশোতে আলোচক নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই শিক্ষক।

তিনি লেখেন, ‘সংবাদপত্র বিশ্লেষণধর্মী একটা প্রোগ্রামে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষকের চেয়ে ভুঁইফোড়-নামসর্বস্ব “জবান” পত্রিকার সম্পাদক রেজাউল করিম রনিকে রাখা বিটিভির কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হলো! “জবান” নামক পত্রিকাটির কোনো সংখ্যা বা স্টোরি আমি দেখিনি! আপনারা দেখে থাকলে জানাবেন।’

রেজাউল করিম রনির আগের পরিচয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রসঙ্গও স্ট্যাটাসে তুলে ধরেন খোরশেদ আলম। তাঁর দাবি, ২০১০-১১ সালের দিকে রনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। সে সময় রনি তাঁকে কোনো একটি বিষয়ে ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

খোরশেদ আলম লেখেন, রনির অনুরোধে তিনি তৎকালীন নাট্যকলা বিভাগের (বর্তমানে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স) শিক্ষক তিতাস জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভাগটিতে ভর্তির জন্য বিশেষ কোনো পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত রনি কোথায় ভর্তি হয়েছিলেন, তা তাঁর জানা নেই বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে রেজাউল করিম রনির বক্তব্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা নিয়েও সমালোচনা করেন এই শিক্ষক। একই সঙ্গে বিটিভিতে রনিকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন তিনি।

খোরশেদ আলমের এই বক্তব্যের বিষয়ে রেজাউল করিম রনি ও বিটিভি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।