ঢাকা শহরে ছোট পরিসরে একটি রেস্টুরেন্টের ব্যবসা শুরু করতে অন্তত ১০ থেকে ১২টি লাইসেন্স ও অনুমোদন নিতে হয়। এ জন্য উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরতে হয় এবং নানা ধরনের জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দুর্নীতিবান্ধব প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন এশিয়া পোস্টের সম্পাদক ও প্রকাশক পলাশ মাহমুদ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।
স্ট্যাটাসে পলাশ মাহমুদ লিখেছেন, একটি ছোট ব্যবসা শুরু করার আগেই উদ্যোক্তাদের ১০ থেকে ১২টি সরকারি দপ্তরের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। প্রতিটি দপ্তরে গিয়ে নানা জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির শিকার হতে হয়। কোথাও ঘুষের দাবি, কোথাও অযৌক্তিক আপত্তি, আবার কোথাও দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখা হয়। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়, যেন ঘুষ ছাড়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়াই অসম্ভব।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই জটিল ব্যবস্থা কারা তৈরি করেছে, কারা তা টিকিয়ে রেখেছে এবং নাগরিকদের হয়রানি করে কারা লাভবান হচ্ছে?
পলাশ মাহমুদ বলেন, ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে উদ্যোক্তারা যেসব দপ্তরে ঘুরছেন, যেসব কর্মকর্তার কাছে হয়রানির শিকার হচ্ছেন কিংবা যাঁদের টেবিলে ফাইল আটকে থাকছে, তাঁদের অধিকাংশই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। ফলে নাগরিকদের সময়, অর্থ ও শ্রম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নিজের দেশে ব্যবসা করার ক্ষেত্রেও নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
তাঁর মতে, দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাঁদের স্বার্থ রক্ষাকারী জটিল প্রশাসনিক ব্যবস্থাই এ ধরনের হয়রানির অন্যতম কারণ।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব নাগরিকদের সেবা দেওয়া, হয়রানি করা নয়। জনগণের করের টাকায় তাঁদের বেতন হয়। তাঁরা জনগণের সেবক, প্রভু নন। অথচ বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে নাগরিকদের সরকারি সেবা পেতে গিয়ে অসহায় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে পলাশ মাহমুদ বলেন, দুর্নীতিবান্ধব প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। লাইসেন্স ও অনুমোদনের নামে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা দূর করতে হবে। সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করতে হবে। নাগরিকদের এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘোরানোর পরিবর্তে সহজ ও কার্যকর পদ্ধতিতে সেবা পৌঁছে দিতে হবে।
নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকের অধিকার ভিক্ষা নয়। সরকারি সেবা কারও দয়া বা অনুগ্রহ নয়; এটি নাগরিকের অধিকার।
পলাশ মাহমুদ আরও বলেন, ঘুষ ও হয়রানিমুক্ত সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে এবং সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে ব্যবসা করার পরিবেশ গড়ে তুলতে বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তনে ঐক্যবদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উদ্যোগ প্রয়োজন। ব্যবস্থা পরিবর্তন না হলে হয়রানি বন্ধ হবে না।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!