নারীদের পর্দার মূল নির্দেশনা হলো সৌন্দর্য গোপন রাখা, শুধুমাত্র বাহ্যিকভাবে যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পায় তা ছাড়া।
নারীদের পর্দার মূল নির্দেশনা হলো সৌন্দর্য গোপন রাখা, শুধুমাত্র বাহ্যিকভাবে যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পায় তা ছাড়া।   ছবি: সংগৃহীত

গায়ের মাহরাম (যাদের সঙ্গে বিবাহ বৈধ) পুরুষের সামনে নারীদের পর্দা করা ফরজ। এ ক্ষেত্রে বোরকা বা ঢিলেঢালা পোশাক পরে শুধু মুখমণ্ডল ও হাতের কবজি খোলা রাখা যাবে কি না-এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, নারীদের পর্দার মূল নির্দেশনা হলো সৌন্দর্য গোপন রাখা, শুধুমাত্র বাহ্যিকভাবে যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পায় তা ছাড়া। তাঁর মতে, অধিকাংশ মুফাসসিরদের ব্যাখ্যায় মুখমণ্ডলও পর্দার অন্তর্ভুক্ত।

তিনি বলেন, অনেক আলেমের মতে মুখমণ্ডল খোলা রাখা জায়েজ হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের মত হলো-মুখমণ্ডলও পর্দার অংশ। কারণ মানুষের সৌন্দর্যের প্রধান অংশ হলো মুখমণ্ডল, তাই এটি ঢাকা থাকাই অধিক নিরাপদ ও অগ্রগণ্য মত।

তিনি কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, নারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, শুধু যে অংশ স্বাভাবিকভাবে প্রকাশিত হয় তা ছাড়া। তাঁর মতে, এই নির্দেশনার আওতায় মুখমণ্ডলও পড়ে।

হাদিসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, হজরত আয়েশা (রা.) হজের সফরে গায়ের মাহরাম পুরুষদের সামনে মাথার কাপড় টেনে মুখ আড়াল করতেন। তাঁর মতে, এটি মুখমণ্ডল ঢাকার ইঙ্গিত বহন করে।

তিনি আরও বলেন, কিছু প্রাচীন আলেম মুখমণ্ডল খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছেন, তবে খোলা রাখা ও প্রদর্শন করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বর্তমান সময়ে অনেক ক্ষেত্রে হিজাব এমনভাবে পরিধান করা হয়, যাতে মুখমণ্ডলকে আলাদাভাবে প্রদর্শনের চেষ্টা থাকে, যা পর্দার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।