ঢাকা সিটির পার্কগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী ও অনিরাপদ: সাদিক কায়েম
ঢাকা সিটির পার্কগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী ও অনিরাপদ: সাদিক কায়েম   ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, অবহেলা ও অযত্নে রাজধানীর পার্কগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী ও অনিরাপদ হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর ভিপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী আবু সাদিক কায়েম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীতে রমনা সমাজকল্যাণ সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এক ম্যারাথন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘সুস্বাস্থ্যের জন্য ম্যারাথন’ স্লোগানে আয়োজিত এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন রমনা সমাজকল্যাণ সোসাইটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের (রমনা) কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আবদুস সাত্তার সুমন। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী থেকে শুরু হওয়া ম্যারাথনটি বেইলি রোড ও মিন্টো রোড হয়ে রমনা পার্ক প্রদক্ষিণ করে যমুনার সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে পাঁচ শতাধিক স্থানীয় নাগরিক অংশ নেন।

সাদিক কায়েম বলেন, চীন সফরে গিয়ে তিনি দেখেছেন, সেখানকার মানুষ ফজরের আজানের পরপরই শরীরচর্চার জন্য রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। দিনের শুরুতেই তাঁরা বড় বড় পার্ক ও মাঠে গিয়ে ব্যায়াম করেন। অথচ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় মানুষের সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত পার্ক ও মাঠ নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, রাজধানীতে যে কয়েকটি পার্ক রয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোই অবহেলা ও অযত্নে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিছু পার্ক মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের দখলে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব পেলে পার্কগুলোকে মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের দখলমুক্ত করে জনসাধারণের ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন সাদিক কায়েম। পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় একটি করে পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ঢাকাবাসীর জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে রমনা সমাজকল্যাণ সোসাইটির চেয়ারম্যান ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আবদুস সাত্তার সুমন বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক বন্ধন জোরদার করতে তাঁর সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও জনসচেতনতা তৈরিসহ নানা সামাজিক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ম্যারাথনের মতো আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একইভাবে সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দূর করতেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

আবদুস সাত্তার সুমন আরও বলেন, অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। রমনাকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত করে শান্তির জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।

ম্যারাথনে আরও অংশ নেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও চিকিৎসক ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব, ইস্কাটন সমাজকল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল আলম সুমন, সেন্টার ফর এডুকেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেন, রমনা সমাজকল্যাণ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল ফারুক, নির্বাহী সদস্য আকবর হোসেন, আবু আহমেদ মারুফ, সুলতান উদ্দিন ও আবু মুসাসহ সংগঠনটির যুব সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে এ ধরনের আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।