১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য দেলাওয়ার হোসেন।
১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য দেলাওয়ার হোসেন।   ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচিত হলে সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য দেলাওয়ার হোসেন। তিনি বলেছেন, সরকারি বরাদ্দের একটি পয়সাও তছরুপ করতে দেওয়া হবে না এবং বরাদ্দ বণ্টনে কোনো ধরনের দলীয়করণ করা হবে না। ধর্ম, বর্ণ, দলমত ও জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে সব নাগরিক সমানভাবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের রহিমানপুর ইউনিয়নের ডেবাডাঙ্গী এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, অতীতে বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও সরকারি বরাদ্দ বণ্টনে দলীয় বিবেচনার অভিযোগ ছিল। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিজয় হলে তা জনগণের বিজয় হবে। সব মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।

ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ জন্য সমাজের নেতৃত্বে সৎ, যোগ্য, দক্ষ, আদর্শবান ও মানবিক ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে।

অতীতের জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিভিন্ন দলের নেতারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও জনগণের অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ নির্যাতন ও জুলুমের শিকার হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

আগামী ২৯ অক্টোবরের নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের নেতৃত্বে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্রের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয়, তাদের কারণে সাধারণ মানুষ বারবার শোষণের শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত করতে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্থানীয়দের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তুলে ধরে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, তাঁর দল সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারকে প্রশ্রয় দেয় না এবং দলীয়করণে বিশ্বাস করে না। নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতিটি নাগরিককে সমান সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। যারা আল্লাহকে ভয় করেন, তারা দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যায় থেকে বিরত থাকবেন এবং অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রহিমানপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোহাম্মদ আবু হানিফের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন সেক্রেটারি হাফেজ ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় উঠান বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কফিল উদ্দিন আহাম্মদ। এ সময় জেলা যুব বিভাগের সভাপতি শাহজালাল জুয়েলসহ ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।