গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের মতবিনিময় সভা
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের মতবিনিময় সভা।   ছবি: আরটিএনএন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই) গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন। সভায় তিনি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

রোববার (১৮ মে) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন, জুলাই সনদ, বর্তমান সরকারের কার্যক্রম, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের সামগ্রিক অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পীর সাহেব চরমোনাই। এ সময় দলীয় সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নতুন দলকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করা ও আসন বণ্টনের বিষয়ে আগের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা না করে একক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন বৈঠক এবং ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার পরিবর্তে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনার অঙ্গীকারের বিষয়েও আপত্তি ছিল তাদের।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে উগ্রবাদী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। এসব কারণেই সমঝোতা ভেঙে যায় বলে দাবি করেন তিনি। তবে পরে সমঝোতা টিকিয়ে রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘আমরা শুধু এমপি বা মন্ত্রী হওয়ার জন্য রাজনীতি করি না। ইসলাম, দেশ, জাতি ও মানবতার পক্ষে আমরা অটল থাকব। ভবিষ্যতেও এই ভিত্তিতে জোট হতে পারে।’

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সে বিষয়ে তাঁরা আস্থা রাখতে চান।

নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দল বর্তমানে একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দলের ভেতরে সংস্কার ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিকে ‘গোলামির চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানান পীর সাহেব চরমোনাই।

পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি যা করছে, তা কোনো সভ্য রাষ্ট্র করতে পারে না। এতে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

সভায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।