‘অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিটি সেক্টরে কমিটি গঠন করা হবে’
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।   ছবি: আরটিএনএন

ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার না পেলেও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রতিটি সেক্টরে কাজ করবে। শ্রমিকদের অধিকার আদায়, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (ডেসকো)-এর শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল ৫টায় রাজধানীর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, আউটসোর্সিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এক ধরনের বৈষম্যমূলক শ্রমনীতি চালু হয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হলেও প্রকৃত শ্রমিকরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, “স্থায়ী প্রকৃতির কাজে দীর্ঘদিন অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে তাদের স্থায়ীকরণ না করা শ্রম আইনের পরিপন্থী। এর ফলে শ্রমিকরা বোনাস, ভাতা, অবসর সুবিধা ও অন্যান্য অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকছেন।”

তিনি আরও বলেন, আউটসোর্সিং কর্মীদের মধ্যে মজুরি বৈষম্য, ট্রেড ইউনিয়ন করার সীমাবদ্ধতা, কর্মঘণ্টা নির্ধারণে অসঙ্গতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘাটতি বিদ্যমান। পাশাপাশি নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও নেতৃত্বের দুর্বলতার কারণে শ্রমিকরা সংগঠিত হতে পারছেন না।

সম্প্রতি শ্রম আইন সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্রেড ইউনিয়নে “১০ শতাংশ বহিরাগত নেতৃত্ব” রাখার সুযোগের কারণে নতুন নেতৃত্ব বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অবসরের পরও অনেকেই ইউনিয়নের নেতৃত্বে থেকে এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী পরিবেশ তৈরি করছেন। তিনি বলেন, “ট্রেড ইউনিয়নে গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করতে নেতৃত্বে পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।”

ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা সীমিত করার প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে পাঁচটি ইউনিয়নের বিষয়ে ঐকমত্য হলেও নতুন প্রস্তাবে তা তিনটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা শ্রমিকদের মতামতের পরিপন্থী।

অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, “কোনো অন্যায়-অবিচারকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে গণমাধ্যম ও সামাজিকভাবে জনমত গড়ে তোলা হবে। অতীতে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে কাজ সীমিত থাকলেও এখন প্রতিটি সেক্টরে সংগঠনকে সক্রিয় করা হবে।”

ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মোহাম্মদ তসলিমের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মো. সোহেল রানা মিঠু, আব্দুল কাদের, শেখ আরিফুল্লাহ, মো. আওয়াল হোসেন, আউটসোর্সিং কর্মী প্রতিনিধি মো. সোহেল রানা, ডাক বিভাগের মো. আল আমিন, মো. আব্দুল আজিজ, আ ন ম বজলুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।