‘ভোটের আগে সবাই মাজারে যায়, কিন্তু মাজারে হামলা হলে কেউ আসে না’
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।   ছবি: আরটিএনএন

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, “ভোটের আগে সবাই মাজারে যায়, কিন্তু মাজারে হামলা হলে কেউ সহমর্মিতা দেখাতে আসে না।”

তিনি সাম্প্রতিক সময়ে মাজার ও মাজারভক্তদের ওপর হামলাকে বিরুদ্ধ মতের ওপর হামলা অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে জুলুম ও বৈষম্যবিরোধী নাগরিকদের দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

রবিবার (১৭ মে) মিরপুর শাহ আলী বেগদাদী (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাধু-গুরু-ভক্ত ও ওলি-আউলিয়া আশেকান পরিষদ এবং ভাব বৈঠকী সভার যৌথ আয়োজনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মোহাম্মদ রোমেলের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কবি ও ভাবুক ফরহাদ মজহার। বিপুল সংখ্যক বিক্ষুব্ধ মাজারভক্ত, পাগল, সাধক, বাউল ও দর্শনার্থী সমাবেশে অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুর শাহ আলী মাজারে হামলায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “ছোটবেলায় আমরা অনেকেই ভক্তি সহকারে মাজার জিয়ারত করেছি, মাজারে মোমবাতি জ্বালিয়েছি। 

কিন্তু বিজ্ঞ আলেমদের কাছ থেকে যখন জানতে পেরেছি, এগুলো ধর্মমতে সহিহ কাজ নয়, আমরা সেগুলো পরিহার করেছি। বিজ্ঞ আলেমগণ আমাদের যুক্তি দিয়ে বুঝিয়েছেন, কিন্তু কখনোই মাজারে হামলা করে এসব কাজ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেননি। 

যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে মানুষকে সংশোধন করাই হলো ইসলামের কাজ। বিরুদ্ধ মতের ওপর শক্তি প্রয়োগ ও হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।”

তিনি সারাদেশের মাজারগুলোতে সিসি ক্যামেরা লাগানোর দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করতে হবে সচিবালয় ও জাতীয় সংসদ থেকে। প্রয়োজনে সংসদে, সচিবালয়ে এবং পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে যারা মাদকাসক্ত, তাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।”

তিনি অধিকার আদায়ের প্রশ্নে এবি পার্টির সংগ্রাম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, ফরিদুল হক প্রমুখ।