বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) তিন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ ছাড়া, দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কেউ কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন। তাই তারা আগের মতো সংগঠনকে সময় দিতে পারছেন না। এই বাস্তবতায় বিএনপির তিন সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণার তোড়জোড় চলছে। প্রতিদিন কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসা-বাড়িসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিড় বাড়ছে। এ ছাড়া পদপ্রত্যাশীরাও শোডাউন করছেন। এতে নতুন কমিটি নিয়ে আগ্রহ বেড়েই চলেছে।
বিএনপি একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, দলের প্রায় সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বে এবার বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। স্বাভাবিকভাবে বিএনপির তিন সংগঠনে সেই পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।
এর মধ্যে বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ২০২৪ সালের ২৯ মার্চ গঠিত রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছিরের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় যে কোনো সময় নতুন কমিটি গঠনের গুঞ্জন চলছে। সেই কারণে ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিড় করা নেতাকর্মীরা জানান, ছাত্রদলের সভাপতি পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির (২০০৭-০৮ সেশন), সহ-সভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসিত (২০০৮-০৯ সেশন) সহ-সভাপতি মো. মনজুরুল আলম রিয়াদ (২০০৮-০৯ সেশন), সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ (২০০৮-০৯ সেশন),, ইজাজুল কবির রুয়েল (২০০৮-০৯ সেশন), শাফি ইসলাম (২০০৮-০৯), জহির রায়হান আহমেদ (২০০৮-০৯ সেশন), খোরশেদ আলম সোহেল (২০০৮-০৯), ডা. তৌহিদুর রহমান আওয়াল (২০০৮-০৯ সেশন), যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক সালেহ মো. আদনান (২০০৯-১০ সেশন), যুগ্ম-সাধারণ মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম (২০০৭-০৮ সেশন), ১ম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান (২০০৮-০৯ সেশন), ২নং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, এস এম মাহমুদুল হাসান রনি (২০০৯-১০), সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান (২০০৯-১০ সেশন), প্রচার সম্পাদক শরিফ প্রধান শুভ (২০০৯-১০), হাসানুর রহমান হাসান (২০০৯-১০), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস (২০১০-১১) ও ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সভাপতি সোহাগ ভূইয়া প্রমুখ।
.gif)
আর সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামিম আকতার শুভ, নাকিবুল ইসলাম চৌধুরী, রাজু আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও যুগ্ম-সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ।
এছাড়া ২০১১-১২ সেশনের আরও কয়েকজন নেতা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- নাছির উদ্দিন শাওন, গাজী সাদ্দাম হোসেন, তারেক হাসান মামুন, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, সাইদুর রহমান, ইব্রাহিম খলিল, মাহমুদ ইসলাম কাজল ও শামীম আকতার শুভ।
তবে, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত ভিপি, জিএস ও এজিএস প্রার্থী যথাক্রমে আবিদুল ইসলাম খান, শেখ তানভীর বারী হামিম, তানভীর আল হাদী মায়েদও চমক হিসেবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হতে পারেন। সেক্ষেত্রে শেখ তানভীর বারী হামিমকে দলে ফিরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ছাত্র ও অধিকতর তরুণদের গুরুত্ব দিয়ে কমিটি করতে পারে হাইকমান্ড।

অন্যদিকে, জাতীয়তাবাদী যুবদল বর্তমানে সুপার সেভেন বা ৭ সদস্যের কমিটি দিয়ে চলছে। এই কমিটি দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ করার দাবির মধ্যেই নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
এর আগে, ২০২৪ সালের ৯ জুলাই বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি ও মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ঘোষণা করা সেই কমিটি দেড় বছরেও সেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা যায়নি। তবে যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে কথা বলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের তালিকাও জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে যেকোনো সময় যুবদলের কমিটি পূর্ণাঙ্গ অথবা নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে।
এতে যুবদলের বর্তমান কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হলে অথবা আংশিক পরিবর্তন হলে সংগঠনটির দীর্ঘদিনের প্রথা বা রীতিনীতি অনুযায়ী যুবদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি সভাপতির দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। তবে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদ অধিবেশন ও এলাকার মানুষের জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকেও যুবদল ছাড়তে হতে পারে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন কমিটি গঠনের সম্ভাবনা বেশি। আর সেই নতুন কমিটির নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন রাজপথের পরীক্ষিত সাবেক ছাত্র ও যুবনেতারা।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিড় করা নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে, যুবদলের শীর্ষ পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি হাসান মামুন, যদিও তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির শীর্ষ পদেও আলোচনায় রয়েছেন, যুবদল সভাপতির দৌড়ে আরও আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সহ সভাপতি জাকির হোসেন সিদ্দিকী, বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল করিম পল।
আলোচনায় আরও রয়েছেন- বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাঈদ ইকবাল টিটো, ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্য সচিব মোস্তফা জগলুল পাশা (পাভেল), ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আকরামুল হাসান মিন্টু, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফজলুর রহমান খোকন ও কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।
এ ছাড়া, চমক হিসেবে যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বর্তমান আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েল ও সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজের নামও আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রীত্বও পেয়েছেন। এরপর থেকে তারা আগের মতো নেতাকর্মীদের সময় দিতে পারছেন না। এ ছাড়া, তিন বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তাই স্বেচ্ছাসেবক দলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি যেকোনো সময় ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনাই বেশি। তবে কেউ কেউ দাবি করছেন স্বেচ্ছাসেবক দল পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসিন আলী, সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, সংগঠনটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিনসহ বেশ কয়েকজন নেতা।
.gif)
এছাড়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম নোমান।
তবে শেষ পর্যন্ত কারা ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্বে আসবেন, তা নির্ভর করছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর বলে জানিয়েছে বিএনপির একাধিক সূত্র।
ছাত্রদলের কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জাকির উদ্দিন আবির বলেন, যোগ্য নেতাকর্মীরাই ছাত্রদলের দায়িত্ব পাবেন এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। তবে বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ত্যাগী নেতারা মূল্যায়িত হবেন বলে প্রত্যাশা করছি। তবে শেষ পর্যন্ত কারা ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসবেন, তা নির্ভর করছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
অন্যদিকে, যুবদলের কমিটি কবে নাগাদ হতে পারে এমন প্রশ্ন করলে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি বলেন, কমিটি তাড়াতাড়ি হওয়া দরকার, হলে ভালো হয়। আমরা চেষ্টা করছি। তালিকা করে জমা দিয়েছি। এখন সাংগঠনিক অভিভাবক বিষয়টি দেখবেন।
স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসিন আলী বলেন, কমিটির মেয়াদ শেষ হলে আবার কমিটি হবে এটাই নিয়ম, সেভাবে আমাদের অভিভাবক চাইলে নতুন কমিটি হবে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!