শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তনের বিভিন্ন দাবি জানিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।
শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তনের বিভিন্ন দাবি জানিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।   ছবি: আরটিএনএন

রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল থেকে শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তনের বিভিন্ন দাবি জানিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।

মঙ্গলবার বাদ মাগরিব রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শাপলা চত্বরের নিহতদের স্মরণে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান, যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব, সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান, সদস্য সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহেদ এবং সহকারী সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

বক্তারা শাপলা চত্বরের ঘটনাকে “গণহত্যা” হিসেবে উল্লেখ করে এর বিচার দাবি করেন। একইসঙ্গে তারা বিদ্যমান সংবিধান পরিবর্তন করে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক সংবিধান প্রণয়ন, ফ্যাসিবাদ নিষিদ্ধকরণ এবং ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে ব্ল্যাশফেমি আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান।

বক্তব্যে বলা হয়, ২০১১ সালে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা পুনর্বহালের মধ্য দিয়ে ইসলামবিরোধী ধারা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর পরিণতিতেই ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সহিংসতা ঘটে। তারা দাবি করেন, নিরীহ আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের ওপর ওই সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল।

খোমেনী ইহসান তার বক্তব্যে বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এটি ঘটেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালের পর বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্বাচনগুলোও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।

বক্তারা বলেন, কেবল ঘটনার বিচার নয়, বরং এর পেছনের আদর্শিক কাঠামো পরিবর্তন না করলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব নয়। তাদের মতে, একটি গণমুখী ও ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি।

এছাড়া তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও হেফাজতে ইসলামের উত্থাপিত দাবিগুলোর কোনোটি বাস্তবায়িত হয়নি। ধর্ম অবমাননার অভিযোগের ঘটনাগুলো নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানান।

অনুষ্ঠান শেষে শাপলা চত্বরের নিহতদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয় এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।

এসএস