‘নারী শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক দায়িত্ব’।
‘নারী শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক দায়িত্ব’।   ছবি: আরটিএনএন

ন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে নূরুন্নিসা সিদ্দীকা দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সংহতি জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো শ্রমজীবী মানুষ; তাদের নিরলস পরিশ্রমের ওপর ভর করেই শিল্প, কৃষি ও সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা টিকে আছে এবং এগিয়ে চলছে।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার বহু বছর পরও দেশের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক এখনো ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নারী শ্রমিকরা দ্বিমুখী বৈষম্যের শিকার, একদিকে কর্মক্ষেত্রে বেতন ও সুযোগ-সুবিধায় বৈষম্য, অন্যদিকে সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ও বিভিন্ন ঝুঁকির মুখে তাদের কাজ করতে হয়।

নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, নারী শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক দায়িত্ব। এ লক্ষ্য অর্জনে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শ্রম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের ওপর জোর দেন তিনি, যাতে শ্রমিকরা সম্মানজনক পরিবেশে কাজ করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, ইসলামের শিক্ষায় শ্রমিকের অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়েছে। তিনি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘রাসূল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে।’ এই নীতির আলোকে তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।

বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো দিন নয়; বরং এটি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতীক। এ উপলক্ষে তিনি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সবশেষে, দেশের সকল শ্রমিকের সার্বিক কল্যাণ, নিরাপত্তা ও উন্নতি কামনা করেন তিনি। 

জেহাদী/এসএস