ডা. জাহেদ উর রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।
ডা. জাহেদ উর রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।   ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশংকা থেকে পুলিশের সবগুলো ইউনিটে এক সতর্কতাবার্তা সহ চিঠি প্রেরণ করা হয়। এরপরই দেশের ৮ টি বিমানবন্দরেও হাই এলার্ট জারি করা হয়। তবে এরই মধ্যে দেশে জঙ্গি আছে নাকি নেই এই নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন দ্বন্দ। 

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন,  বর্তমানে দেশে জঙ্গিবাদের কোনো বাস্তব পরিস্থিতি নেই; অতীতে এটি রাজনৈতিক স্বার্থে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তিনি জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে।

তিনি আরও বলেন, জঙ্গিবাদ শব্দটিকেই আমরা এখন আর রিকগনাইজ করি না। আমাদের দেশে এ ধরনের কোনো তৎপরতা নেই। কিছু এক্সট্রিমিস্ট বা রেডিক্যাল গ্রুপ সব দেশেই থাকে—এটা অস্বাভাবিক নয়। তবে বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় জঙ্গিবাদের কোনো উপস্থিতি নেই। তীতে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে ‘জঙ্গিবাদ’ ইস্যুটি ব্যবহার করা হয়েছিল।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশে জঙ্গি নেই—এ কথা পুরোপুরি বলা যাবে না। তার মতে, দেশে জঙ্গি রয়েছে, তবে অতীতে বিশেষ করে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জঙ্গিবাদকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা অনেকাংশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছে। 

উপদেষ্টা বলেন, 'দেশে জঙ্গি সম্পর্কে দুটি চরম ধারণা রয়েছে। একটি হলো দেশ জঙ্গিতে ভরে গেছে, আরেকটি হলো দেশে কোনও জঙ্গি নেই। সরকার মনে করে দুটোই ভুল। সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশে উগ্রপন্থার প্রবণতা রয়েছে, যা মাঝেমধ্যে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। তবে, রাষ্ট্র তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।'