সংকট নিরসনে প্রয়োজন কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপের, কার্ড দিয়ে সংকট সমাধান করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ডক্টর শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।
সোমবার রাতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, কার্ড দিয়ে সংকট সমাধান করা যাবে না; সংকট নিরসনে প্রয়োজন কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সরকারের দেওয়া ফ্যামিলি কার্ড, এলপিজি কার্ডসহ বিভিন্ন সুবিধা কি দেশের প্রতিটি পরিবার পাবে? যদি না পায়, তবে তা রাষ্ট্রীয় বৈষম্য সৃষ্টির শামিল।
গ্যাস সংকট মোকাবেলায় এলপিজি কার্ড দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কার্ডের নামে জনগণকে ধোঁকা না দিয়ে সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট বন্ধ হলেই সংকট কেটে মানুষের স্বস্তি ফিরবে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের রক্তের অবদান রয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
বিএনপির সমালোচনা করে ডক্টর মাসুদ বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি নেতারা “সিজনাল আসামি” সেজেছিল। আন্দোলনের কর্মসূচি এলে তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে আটক হলেও জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের মতো রিমান্ড ও জুলুমের মুখে পড়েনি। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতারা কারাগারে গিয়ে অসুস্থতার অজুহাতে উন্নতমানের হাসপাতালে অবস্থান করতেন।
নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমার জামিন হচ্ছিল না, তখন বিএনপি নেতারা ‘ম্যানেজ’ করে জামিন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী কখনো ম্যানেজের রাজনীতি করেনি, করবেও না।’
তিনি আরও বলেন, যারা জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলে অভিযুক্ত করে, তারাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বিঘ্নে ছিল।
২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচির দিনে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সেদিন রাজপথে ছিল জামায়াত-শিবির, রক্ত দিয়েছে তারাই। এখন তাদেরকেই গুপ্ত বলা হচ্ছে—এটা বিএনপির জন্য লজ্জার।’
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোট চেয়ে পরে সেই রায় অস্বীকারকারীরাই প্রকৃত ‘মোনাফেক’।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রাম চলবে। তিনি বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর করতে সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে বাধ্য করা হবে।
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশ বাস্তবায়নের প্রস্তুতিমূলক এ সভা বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মো. সোহেল রানা মিঠুর পরিচালনায় মহানগরীর হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মহানগরীর কার্যনির্বাহী সদস্যবৃন্দ বক্তব্য রাখেন এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক থানার সভাপতি ও সেক্রেটারিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!