আ.লীগ নেত্রীর মেয়ে পেলেন বিএনপির মনোনয়ন
আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা নাখলু আক্তার (বামে) এবং নাদিয়া পাঠান পাপন (ডানে)।   ফাইল ছবি

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন নাদিয়া পাঠান পাপন, যিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন আওয়ামী লীগ নেত্রীর কন্যা হিসেবে। বিষয়টি প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, নাদিয়া পাঠান পাপন বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য। তিনি বিজয়নগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য সৈয়দা নাখলু আক্তারের মেয়ে।

সোমবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ জনের তালিকায় পাপনের নাম ৩২ নম্বরে আসে। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ইসিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন নাদিয়া পাঠান পাপন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, নাদিয়া পাঠান পাপন ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে রাজনীতি শুরু করে বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে তার মা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং দলটির মনোনয়নে জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এ বিষয়ে সৈয়দা নাখলু আক্তার বলেন, আমি আগেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। বর্তমানে কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই। আমার মেয়ে ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল। রাজনীতি নিয়ে আমাদের মধ্যে কখনো বিরোধ হয়নি।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, পাপন শুধু পদধারী নেত্রীই নন, বরং মাঠের আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোতে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন। ঢাকায় বসবাসের কারণে সেখান থেকেই তিনি রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এদিকে তার মনোনয়ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর মৃধা। তিনি মন্তব্য করেন, “রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই”—তবে বিজয়নগরের সন্তান হিসেবে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে পাপনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

নিজের মনোনয়ন প্রসঙ্গে নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, দল যাচাই-বাছাই করেই আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে যে ভূমিকা রেখেছি, সেটাই আমার বড় পরিচয়। এখন মূল লক্ষ্য দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং মানুষের জন্য কাজ করা।