অনলাইনে ভিন্নমত দমনে গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনায় ছাত্রশিবিরের উদ্বেগ প্রকাশ।
অনলাইনে ভিন্নমত দমনে গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনায় ছাত্রশিবিরের উদ্বেগ প্রকাশ।   ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভিন্নমত প্রকাশের জেরে দেশজুড়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গত ২০ এপ্রিল এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ উদ্বেগ জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, ভিন্নমত প্রকাশের কারণে সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের লক্ষ্য করে গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হচ্ছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে তারা জানান, ফেসবুক পোস্ট ও কার্টুন শেয়ারের অভিযোগে ময়মনসিংহ থেকে আজিজুল হক, ঢাকা থেকে হাসান নাসিম, মুন্সীগঞ্জ থেকে শাওন মাহমুদ এবং ঠাকুরগাঁও থেকে আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ভোলায় বিবি সাওদা নামে এক গৃহিণীকেও একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে আদালত তাকে জামিন দেয়।

নেতৃবৃন্দ এসব ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দাবি করেন। তারা সরকারের কর্মকাণ্ডকে ‘দ্বিমুখী আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনের আগে বাকস্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে সরকার সমালোচনা সহ্য করতে পারছে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ময়মনসিংহে কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়াই ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার এবং ঢাকায় সাইবার সুরক্ষা আইনের অপপ্রয়োগ করে কার্টুনিস্ট ও অ্যাক্টিভিস্টদের টার্গেট করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকদের গঠনমূলক সমালোচনা স্বাভাবিক হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দাবি করেন, সাধারণ ছাত্র, গৃহিণী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা ভিন্নমত দমনেরই অংশ।

পরিশেষে নেতৃবৃন্দ সরকারকে সমালোচনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।