বিএনপির নতুন মহাসচিব পদে আলোচনায় যারা
বিএনপির নতুন মহাসচিব পদে আলোচনায় যারা।   ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর হঠাৎ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনীতি থেকে অবসর নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত না হলেও প্রায় দশ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় কাউন্সিলে নতুন মহাসচিব কে হচ্ছেন—তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। পরে দলটির মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা গেলে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির সাংগঠনিক কাজ গতিশীল করতে প্রায় দশ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন কাউন্সিলকে ঘিরে মহাসচিব পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। 

এ ছাড়া বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের নামও আলোচনায় রয়েছে।  

তবে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে পরীক্ষিত বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর ব্যাপারে সবাই ইতিবাচক, আর অতীতে সাংগঠনিক রাজনীতিতে তার সক্রিয় ভূমিকা এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষ হিসেবে পরিচিত সালাহউদ্দিন আহমদও রয়েছেন অনেকটা এগিয়ে এবং ছাত্রদল থেকে উঠে আসা হাবিব উন নবী খান সোহেল বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সর্বাধিক মামলার আসামি হন এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্ব পালনকালে সংগঠনে মেধাবী তরুণদের সম্পৃক্ত করে শক্তিশালী করেছেন। সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গেলে তার আস্থাভাজন হিসেবে হাবিব উন নবী খান সোহেলকেও কাছাকাছি দেখা যায়। 

এ ছাড়া, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, বক্তব্যে পারদর্শিতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতির প্রতিনিধি হিসেবে ভিন্নধর্মী আলোচনায় আছেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং দক্ষ সংগঠক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ডাকসুর সাবেক আমান উল্লাহ আমান ও জিএস খায়রুল কবির খোকন। তবে কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন হোক বা সরাসরি মনোনয়ন হোক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জানান, বিএনপির হাইকমান্ড চাইলে যাকে ইচ্ছা তাকে মহাসচিব পদে বসাতে পারেন। বিষয়টি পুরোপুরি দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার এবং হাইকমান্ড অবশ্যই যোগ্যদের বিবেচনায় আনবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। 
 
অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, চলতি বছরেই কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে অবসর নিতে চেয়েছেন। আর গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠনে পদ-পদবির পরিবর্তন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অবসর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে, আমি ক্লান্ত। আগামী জাতীয় কাউন্সিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চাই।