সরকার সংবিধান ও আইনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে জনগণের মতামত উপেক্ষা করছে।
‘সরকার সংবিধান ও আইনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে জনগণের মতামত উপেক্ষা করছে।’   ছবি: আরটিএনএন

ণভোটকে ঘিরে ‘প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির রাজনীতি’ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তা প্রত্যাখ্যান ও ঘৃণা জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘এ ধরনের রাজনীতি আর চলতে দেয়া হবে না।’

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দলের জেলা ও মহানগর আমীর সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও ত্যাগের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। তার ভাষায়, ‘গণভোটে জনগণ স্পষ্ট রায় দিয়েছে, কিন্তু সেই রায় বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেই। ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করা মানে পুরো জাতিকেই অপমান করা।’

তিনি আরও বলেন, সরকার সংবিধান ও আইনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে জনগণের মতামত উপেক্ষা করছে।

চাঁদাবাজি, প্রশাসনের দলীয়করণ এবং বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘এভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা চলতে পারে না, এটি নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদের সূচনা।’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ভুল স্বীকার করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে এগিয়ে আসুন, নতুবা জনগণই শেষ কথা বলবে।” 

তিনি অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল ‘ইঞ্জিনিয়ারড’ এবং পূর্বনির্ধারিত ফলাফলের নির্বাচন। তার ভাষায়, নির্বাচনের আগেই ট্রফি তুলে দেয়া হয়েছে, তাহলে ভোটের আয়োজনের প্রয়োজন কী ছিল?

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং প্রশাসনকে প্রভাবিত করার অভিযোগও তোলেন তিনি।

প্রয়োজনে রাজপথে নামারও ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, সংসদে বিরোধীদলের কথা বলার সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে এবং জনগণের অধিকার রক্ষার পথ সংকুচিত করা হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রয়োজনে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।

 

হাসান জেহাদী/এসএস