গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের গড়িমসিকে “গণতন্ত্রবিরোধী” আখ্যা দিয়ে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত “গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা” শীর্ষক সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে দেওয়া রায়কে উপেক্ষা করা মানে রাষ্ট্রের সার্বভৌম জনগণের ইচ্ছাকে অস্বীকার করা। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর অজুহাতে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যাচ্ছে, যা “অসাংবিধানিক ও স্ববিরোধী”। দ্রুত জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।
সাদ্দাম বলেন, জুলাই সনদের পক্ষে বিপুল জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও সরকার তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। তিনি দাবি করেন, প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন, যা সরকারের নির্বাচনী ম্যান্ডেটের চেয়েও শক্তিশালী। এই রায়কে উপেক্ষা করা সাংবিধানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকার দাবি না মানলে ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দেন সাদ্দাম। সেমিনারে জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান অভিযোগ করে বলেন, গণভোটে সমর্থন চেয়ে ক্ষমতায় এসে এখন সেটিকে অস্বীকার করছে বিএনপি।
তিনি বলেন, গণভোটের আগে দীর্ঘ সময় ধরে দলটির নেতারা বিষয়টি জানতেন এবং জনগণের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছেন। কিন্তু এখন সেটিকে “প্রতারণা” বলার মাধ্যমে তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে গেছেন।
জাহিদ আহসান দাবি করেন, শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যই বিএনপি গণভোটকে সমর্থন দিয়েছিল। এখন জনরায় বাস্তবায়নে অনীহা দেখানো জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্ম এই দ্বিচারিতা মেনে নেবে না এবং প্রয়োজনে রাজপথেই এর জবাব দেওয়া হবে।
জুলাই ঘটনাকে “পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব” হিসেবে আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।
তিনি বলেন, এই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামো ভেঙে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সেই পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে।
কিন্তু বর্তমান সরকারের আচরণে সেই প্রত্যাশা ভঙ্গ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, “মানুষ যা বুঝেছে, সরকার তা না বোঝার ভান করছে।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজন হলে আবারও রাজপথে নামবে নতুন প্রজন্ম এবং জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
জনপ্রিয় আলোকচিত্রী ও সাংবাদিক শহিদুল আলম সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাই সনদের গুরুত্ব তুলে ধরে তা বাস্তবায়ন করুন।
তিনি আরও বলেন, কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক, তবে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জুলাই সনদ দেশের “মেরামত”-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শহিদুল আলম বলেন, দেশের পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম হয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতার ফলেই বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, বাছাই করে তথ্য প্রকাশ না করে নিরপেক্ষ রিপোর্টিং নিশ্চিত করতে হবে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তাহসিন রিয়াজ। তিনি জুলাই বিপ্লবের চেতনার বিরুদ্ধে গেলে সরকারকে কঠোর প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছেন।
তিনি বলেন, বিপ্লব-পরবর্তী সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামো নির্ধারণ করবে।
তার মতে, ইতিহাস প্রমাণ করে—জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা টেকসই হয় না। গণভোটের রায় সেই ইচ্ছারই প্রতিফলন।
তাহসিন রিয়াজ বলেন, সরকার যদি জুলাইয়ের চেতনা থেকে সরে যায়, তাহলে জনগণ আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!