নির্বাচন
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।   ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দীর্ঘদিনের ভয় ও নির্যাতনের সময় পার করে দেশ এখন নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে সাংস্কৃতিক উপকমিটির আয়োজনে নির্বাচনী গান ও কবিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, গত ১৬–১৭ বছর ধরে বিএনপি ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা চরম দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে গেছে। গুম, খুন, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ভয় নিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে অনেককে। এমন একটা সময় গেছে, যখন রাতে ঘুমাতে পারতাম না, দিনের বেলায় বের হলেই মনে হতো কেউ অনুসরণ করছে। অনেক সহযোদ্ধা আজ আর আমাদের মাঝে নেই।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হলেও ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। সামনে যে নির্বাচন আসছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, সংস্কৃতি মানুষের মনন গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। গান, কবিতা, সাহিত্য মানুষের ভেতরের ভয় দূর করে, সাহস জোগায়। একটি সুস্থ সমাজ গঠনে সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাসে দেখা গেছে—যে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শিল্পী ও সাহিত্যিকরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। কাজী নজরুল ইসলামের গান আজও মানুষকে আন্দোলিত করে, অনুপ্রাণিত করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কণ্ঠশিল্পী মনির খান।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা, রবি চৌধুরী, চিত্রনায়ক ওমর সানী, গীতিকার মাকসুদ জামিল মিন্টু, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে নির্বাচনী গান ও কবিতা পরিবেশনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার আহ্বান জানানো হয়।