নির্বাচন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমির ডা.শফিকুর রহমান।   ছবি: আরটিএনএন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমির ডা.শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদ থাকবে। ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারবেন- এমন পরিবেশ তৈরি করা হবে। আধিপত্যবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ আছে এবং থাকবে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকা মিরপুর-১৫-এ গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মিরপুরসহ ঢাকা মহানগরীকে- একটি নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলবো; যেখানে জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা থাকবে। সবার জন্য উন্নয়ন নিশ্চিত করে একটি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। যানজটের অভিশাপ থেকে ঢাকাবাসীকে মুক্ত করা হবে। শিশু পার্ক, খেলার মাঠ ও সবুজায়ন নিশ্চিত করা হবে। একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য রাজধানী তৈরি করা আমাদের প্রত্যয়।

তিনি আরও বলেন, আমি প্রথমেই ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের স্মরণ করার পাশাপাশি শহীদ ওসমান হাদিকে বিশেষভাবে স্মরণ করছি। আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আমি গভীর দায়িত্ববোধ অনুভব করছি। কারণ মিরপুর শুধু ঢাকার একটি এলাকা নয়-মিরপুর হলো সংগ্রামের প্রতীক, সাহসের প্রতীক, প্রতিবাদের প্রতীক। এই মিরপুর জুলাই বিপ্লবের অন্যতম দুর্গ ছিল। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, এই মিরপুরই আজ অবহেলা, দখলদারি, যানজট, জলাবদ্ধতা, অপরাধ আর অনিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে।

আপনারা ঢাকার বুকে বসবাস করেন, অথচ বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার করেন। একটু বৃষ্টি হলেই কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, পল্লবী, কাফরুল- সব জায়গায় হাঁটু পানি। রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। ড্রেন পরিষ্কার নেই, খাল দখল হয়ে গেছে। এই দুর্ভোগ কি আপনাদের প্রাপ্য ছিল?

প্রিয় ভাই ও বোনেরা,যানজট আজ আমাদের নিত্যদিনের সমস্যা। বাস আছে, কিন্তু শৃঙ্খলা নেই। ফুটপাত দখল হয়ে গেছে, মানুষ বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামছে। এটি পরিকল্পিত অব্যবস্থাপনার ফল।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা আমাদের দায়িত্ব দিলে—সঠিক ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে আনা হবে। বাস রুট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। ঢাকায় মেট্রোরেলের পরিসর আরও বাড়ানো হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। মনে রাখবেন, যাদের চাঁদা তোলার মানসিকতা রয়েছে, তারা ফুটপাত দখলমুক্ত করতে চাইবে না। জামায়াতে ইসলামীকে আল্লাহ এই অভিশাপ থেকে মুক্ত রেখেছেন। স্থানীয় রাস্তাগুলোর পরিকল্পিত ও টেকসই সংস্কার করা হবে। জাতীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে মিরপুরকে ঢাকার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, ঢাকায় নারীদের নিরাপত্তা আজ সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা। মা-বোনেরা চলাচলে নিরাপদ বোধ করেন না। ছিনতাই, মাদক, কিশোর গ্যাং—সব মিলিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ। আমরা নারীদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়বো, ইনশাআল্লাহ। ঘর থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল, রাস্তাঘাট ও গণপরিবহন-সব জায়গায় নারীরা নিরাপদ থাকবে, ইনশাআল্লাহ। সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদ থাকবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি, শক্তিশালী কমিউনিটি পুলিশিং, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি, মাদককে আর ‘সহ্য’ করা হবে না-প্রতিরোধ করা হবে।

মিরপুর–কাফরুল এলাকায় বাড়িভাড়া ও আবাসন সংকট প্রকট। মধ্যবিত্ত পরিবার চাপে, নিম্নবিত্ত মানুষ অনিশ্চয়তায়। আগুন লাগলে সব শেষ হয়ে যায়। আমরা উচ্ছেদে বিশ্বাস করি না। আমরা বিশ্বাস করি নিরাপদ ও মানবিক বস্তি উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী আবাসনের পরিকল্পিত উদ্যোগে। আরেকটি বড় সমস্যা-রাস্তায় ময়লার স্তূপ, দুর্গন্ধে চলা দায়। আমরা এসবের সমাধান করব।

ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নত বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা দাঁড় করাবো, সময়মতো অপসারণ নিশ্চিত করা হবে। আধুনিক রিসাইক্লিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।

চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ানো-এই রাজনীতি আমরা বন্ধ করবো। ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে চাঁদার বোঝা চাপিয়ে যারা জনগণের পকেট কাটে, তাদের আর ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখা হবে। কৃষক তার পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবে, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা হবে।

তিনি বলেন, আইটি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করবো, ফ্রিল্যান্সিং ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলবো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে, বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করবো। আমরা চাই-মিরপুরের যুবক-যুবতীরা হাত পাতবে না, বরং উদ্যোগী হবে। দক্ষ হয়ে অধিক আয় করবে।

গণসংযোগ শেষে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। পুরোনো দিনের বস্তাপচা রাজনীতি, পেশিশক্তির রাজনীতি ও সহিংসতার রাজনীতি বন্ধ করে আমরা দাঁড়াতে চাই গণমানুষের কল্যাণের রাজনীতির পক্ষে। রাষ্ট্র পরিচালনায় দলীয় বিবেচনায় নয়—দেশপ্রেমিক, যোগ্য ও দক্ষ মানুষ দায়িত্ব পাবে। এই মিরপুর জুলাইয়ের দিনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্গ হয়ে উঠেছিল। এই এলাকার মানুষ অন্যায় সহ্য করে না—ইতিহাস তার সাক্ষী। আজ আবার সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। আপনাদের সম্মান, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের জন্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে সুযোগ দিন।

আসুন, একটি নিরাপদ, মানবিক ও বাসযোগ্য মিরপুর গড়ি। একটি নতুন বাংলাদেশের পথে একসঙ্গে হাঁটি। আসুন, একটি নিরাপদ, মানবিক ও বাসযোগ্য মিরপুর গড়ি। একটি নতুন বাংলাদেশের পথে একসাথে হাঁটি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর, মিরপুর-১৫ আসনের আসন পরিচালক জনাব আবদুর রহমান মুসা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ বহু নেতাকর্মী।