এনসিপি
এনসিপি।   ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সক্রিয় সদস্য ও কদমতলী থানার অধিভুক্ত বাসিন্দা ওয়াসিম আহমেদ মুকছানকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এনসিপির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ উদ্বেগ জানানো হয়।

এতে বলা হয়, এনসিপির সক্রিয় সদস্য ও কদমতলী থানার অধিভুক্ত বাসিন্দা ওয়াসিম আহমেদ মুকছানকে গত ৪ জানুয়ারি আনুমানিক ভোর ৪টার দিকে নিজ বাসা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তার স্ত্রী জানান, অপহরণকারী ব্যক্তিরা তিন থেকে চারজন কেউ কোন প্রকার পরিচয়পত্র প্রদর্শন না করে, জোরপূর্বক ঘরে ঢোকে ও তাদের সঙ্গীরা সব বাইরে অবস্থান করছিল। তারা একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস নিয়ে এসেছিল, কেউ ইউনিফর্মে ছিল না, সকলেই সাধারণ পোশাকে ছিল। ওয়াসিমকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদেরকে প্রশ্ন করা হলে অপহরণকারীরা ওয়াসিমের স্ত্রীকে জানায় - ‌‘কাল সকালে শ্যামপুর থানা থেকে ওয়াশিমকে নিয়ে যেতে’। 

পরবর্তীতে সকাল থেকে শ্যামপুর থানা, কদমতলী থানা ও কেরানীগঞ্জ থানায় খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ডিবি কার্যালয়ে গিয়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও কোনো আশানুরূপ সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ওয়াসিম আহমেদ মুকছানের বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।

ওয়াসিম আহমেদ মুকছানের রাজনৈতিক পরিচয় ও গুরুত্ব তুলে ধরে এনসিপি জানায়, ওয়াসিম আহমেদ মুকছান শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী নন, তিনি এনসিপির একজন সচেতন সংগঠক ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় কর্মী। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। 

এনসিপি আরও জানায়, তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সময় থেকে। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিনি শুরু থেকেই মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এনসিপির কদমতলী থানার সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিয়মিতভাবে যুক্ত থেকে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে একজন দৃশ্যমান ও দায়িত্বশীল কর্মীতে পরিণত হন। এই সক্রিয় ও প্রকাশ্য রাজনৈতিক ভূমিকার কারণেই তার হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা, কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে দলের সংগঠন শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। নাগরিক অধিকার, ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক দমন - পীড়নের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন ।

তরুণদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন করতে এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যুক্ত করতে নিয়মিত কাজ করে গেছেন। এই কারণেই ওয়াশিম আহমেদ মুকছান আমাদের রাজনৈতিক পরিসরে একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক। তার এই ভূমিকা ও সক্রিয়তার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের অপহরণের ঘটনা গভীরভাবে উদ্বেগজনক এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুতর হুমকি। 

এনসিপি মনে করি, একজন রাজনৈতিক কর্মীর এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া শুধু তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং এটি নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। এই ধরনের কার্যক্রম পতিত ফ্যাসিবাদী কায়দায় গুম করার প্রতিফলন। যার বিরোধিতা আমরা সব সময়ই করে এসেছি এবং এই অপকর্মের প্রত্যাবর্তন আমরা কখনোই হতে দিবো না। অনতিবিলম্বে সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক এই ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ওয়াশিম আহমেদ মুকছানের অবিলম্বে সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন দাবি করছি। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছি। মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।