বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ওসমান হাদি কে বা কারা হত্যা করেছে—তা বুঝতে জনগণের আর অঙ্ক কষতে হয় না। তিনি বলেন, ওসমান হাদি চেয়েছিলেন দেশ যেন আধিপত্যবাদী শক্তির প্রভাবমুক্ত থাকে। সেই কারণে যারা দিল্লির আধিপত্যবাদীদের তুষ্ট করতে চায়, তারাই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে শহীদ শরিফ ওসমান বিনা হাদির স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ওসমান হাদি “ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার” প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যারা দেশের ইসলামি মূল্যবোধ, জাতিসত্তা ও স্বদেশীয় সুস্থ জাতীয় সংস্কৃতির বিরোধিতা করে এবং বিদেশি সংস্কৃতি চাপিয়ে দিতে চায়—তারাই এই হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করছে। তার ভাষায়, দুইয়ে দুইয়ে চার—এই হিসাব সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারে।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি জানানো হচ্ছে—প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে। অন্যথায় জনগণ মনে করবে, প্রশাসনের ভেতরে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা সক্রিয় রয়েছে, যারা খুনিদের আড়াল করছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন নিয়ে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তা জাতি মেনে নেবে না। ওসমানের মতো সাহসী মানুষরা একের পর এক শহীদ হবেন আর রাষ্ট্রযন্ত্র নীরব থাকবে—এটা চলতে পারে না।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি কোনো ব্যর্থতা থেকে থাকে বা কোনো গোয়েন্দা কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে থাকেন, তাহলে তা জাতির সামনে স্বীকার করতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ওসমান হাদির জানাজায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। গোয়েন্দা ব্যর্থতার জন্য যারা দায়ী, তাদের নাম প্রকাশ করতে হবে অথবা তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই কফিনের সামনে দেওয়া ওয়াদার বাস্তব প্রমাণ মিলবে।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের নীরবতার দেয়াল ভেঙে জনগণের গণ-আকাঙ্ক্ষার পাশে দাঁড়াতে হবে। শহীদ ওসমান বিন হাদির পরিবারের সঙ্গে শুধু জামায়াতে ইসলামি নয়, সমগ্র দেশবাসী রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে—ইনশা আল্লাহ।
দোয়া মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, এটিএম মা’ছুম এবং শহীদ ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর ফারুক।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!