সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নারী কর্মচারীসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবির দাবি, গ্রেপ্তারকৃত চক্রটি নিজেদের কখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আবার কখনো রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত।
শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, গত ২৬ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ডিএমপি কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতির আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায় করছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ কমিটি ও পদ পাইয়ে দেওয়ার নামেও প্রতারণা করা হচ্ছিল।
অভিযোগের ভিত্তিতে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে গত ২০ মে রাতে রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকা থেকে এম আনিসুর রহমান শান্তকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
ডিবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শান্ত প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা বিশ্লেষণ করে চক্রের আরেক সদস্য নিলুফা সুলতানার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা অধিশাখা-২ এ ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেপ্তারদের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি ও কর্মকর্তার সঙ্গে বদলি-পদায়ন সংক্রান্ত কথোপকথন, বায়োডাটা সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য বদলি আদেশের কপি আদান-প্রদানের তথ্য মিলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রায় ২০ থেকে ২২ পৃষ্ঠার কথোপকথনের তথ্য পেয়েছি। সেখানে কোথায় পদায়ন করে দিলে কত টাকা দেওয়া হবে এ ধরনের আলোচনা রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তদন্তে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়। এসব বিষয়ে কোনো প্রতারক চক্রের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা থানায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!