শিশু হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এইচআরএসএস’র 
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।   ছবি: আরটিএনএন

দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার, মুন্সিগঞ্জে আছিয়া আক্তার, ঠাকুরগাঁওয়ে লামিয়া আক্তার এবং সিলেটে শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যার ঘটনাসহ বিভিন্ন শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনাকে “পাশবিক”, “মানবতাবিরোধী” এবং “সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের চরম বহিঃপ্রকাশ” বলে আখ্যা দেয় সংগঠনটি।

এইচআরএসএস জানায়, তাদের সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে অন্তত ১ হাজার ৮৯০ শিশু ও কিশোরী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ৪০৭ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ৫৮০ জন শিশু ধর্ষণ ও ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা প্রমাণ করে দেশে শিশু সুরক্ষার বিদ্যমান ব্যবস্থা কার্যকর নয়। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং দুর্বল আইন প্রয়োগের কারণে এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে বলে মন্তব্য করে সংগঠনটি।

এইচআরএসএস অবিলম্বে সকল ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের যথাযথ প্রয়োগ, ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটি মনে করে, শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক প্রতিরোধ ও মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণও জরুরি।