পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।   ছবি:সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটে থাকা সোহেল রানা (৩৪) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত সোয়া ১০টায় পল্লবী থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম প্রাথমিক তদন্তের তথ্য তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শৌচাগারে পাওয়া যায় এবং শরীরের মূল অংশ উদ্ধার করা হয় খাটের নিচ থেকে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাঁকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে থাকেন। এ সময় বাসার সামনে রামিসার এক পাটি জুতা পড়ে থাকতে দেখে পাশের ফ্ল্যাটে সন্দেহ হয় তাঁর। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তিনি ডাকাডাকি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে দরজা খুললে স্বপ্না আক্তারকে পাওয়া যায়। তবে মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটির সঙ্গে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে আলামত সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, অপরাধ গোপন ও মরদেহ সরিয়ে ফেলতেই আসামি মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টা করেছিল। তবে রামিসার মা বিষয়টি টের পেয়ে যাওয়ায় পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করতে পারেনি অভিযুক্ত ব্যক্তি।

সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, সোহেল ও স্বপ্নার বাড়ি নওগাঁর সিংড়ায়।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি পুরোনো মামলা রয়েছে। তাঁর আচরণ ও স্ত্রীর প্রাথমিক বক্তব্যের ভিত্তিতে পুলিশ ধারণা করছে, তিনি বিকৃত মানসিকতা ও বিকৃত যৌনরুচির ব্যক্তি হতে পারেন। তবে তদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্বপ্না আক্তারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তিনি দাবি করেছেন ঘটনার সময় ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন এবং কিছু জানেন না। তবে তদন্তে দেখা গেছে, রামিসার মা দরজায় ধাক্কা দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় দরজা না খোলা এবং সোহেল রানাকে পালানোর সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি সহযোগিতা করেছেন।

রামিসার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রামিসা স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তাঁর বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন এবং মা পারভীন আক্তার গৃহিণী। দুই বোনের মধ্যে রামিসা ছিল ছোট। বড় বোন রাইসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

পরিবারটি প্রায় ১৭ বছর ধরে ওই বাসায় বসবাস করছে। রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয় তাঁদের পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে।

রামিসার চাচা এ কে এম নজরুল ইসলাম জানান, সকালে বড় বোন রাইসার সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল রামিসার। কিন্তু তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে দরজার বাইরে জুতা দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয় পরিবারের। অনেকক্ষণ নক করেও পাশের ফ্ল্যাটের দরজা না খোলায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়।