পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় দীর্ঘ এক যুগ আগে ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চার সহোদর। বড় ভাইয়ের হাত ধরে একে একে প্রবাসজীবনে পা রাখা অন্য ভাইদের জীবনেও ফিরতে শুরু করেছিল সচ্ছলতা। কিন্তু এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় থেমে গেল সেই স্বপ্নযাত্রা। ওমানে রহস্যজনক গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো চার ভাইয়ের মরদেহ আগামী মঙ্গলবার (১৯ মে) দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
নিহতরা হলেন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দাররাজা পাড়ার প্রয়াত মোহাম্মদ হাসানের ছেলে রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ।
ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে তাদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পরিবার, স্বজন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। একই পরিবারের চার ভাইয়ের একসঙ্গে মৃত্যু এলাকায় বিরল ও হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। পুরো রাঙ্গুনিয়াজুড়ে এখন শোকের আবহ বিরাজ করছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে বর্তমানে একমাত্র জীবিত ভাই দেশে আছেন। নিহতদের মধ্যে বড় ভাই বিবাহিত ছিলেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অন্য এক ভাই সম্প্রতি বিয়ে করে আবার ওমানে ফিরে যান। নিহত সিরাজ ও শহিদ ছিলেন অবিবাহিত।
ছোট ভাই মো. এনাম জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর আগামী ১৫ মে দেশে ফেরার কথা ছিল দুই ভাইয়ের। তাদের আগমনকে কেন্দ্র করে পরিবারে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়।
প্রবাসীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় চার ভাই ওমানের বারকা এলাকা থেকে মুলাদ্দাহর উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত ৮টার পর তাদের একজন এক আত্মীয়কে ভয়েস মেসেজে অসুস্থতার কথা জানান এবং নিজেদের অবস্থান পাঠিয়ে বলেন, তারা গাড়ি থেকে বের হওয়ার অবস্থায় নেই।
পরে মুলাদ্দাহ এলাকার একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির দরজা খুলে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ সময় গাড়িটি চালু অবস্থায় স্থির থাকায় এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস গাড়ির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। সেই গ্যাস শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করায় দমবন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে ওমানের পুলিশ।
বর্তমানে নিহতদের মরদেহ স্থানীয় পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর রাফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন হলে সোমবার (১৮ মে) বা মঙ্গলবারের (১৯ মে) মধ্যে মরদেহ দেশে পাঠানো হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির হোসেন সুমন বলেন, ‘চার ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাইয়ের এক দিন পর দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু এখন চার ভাই-ই ফিরছেন লাশ হয়ে।’
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।’
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!