ওমানে মর্মান্তিক ঘটনায় চার প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তবে এখনো তাঁদের মা খাদিজা বেগম জানেন না, তাঁর চার ছেলের কেউই আর বেঁচে নেই। ছেলেরা অসুস্থ-এটুকু শুনেই তিনি বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। তাই পরিবারের সদস্যরা এখনো মৃত্যুর খবর গোপন রেখেছেন।
নিহত চার ভাই হলেন মুহাম্মদ রাশেদ (৪০), মুহাম্মদ সাহেদ (৩৫), মুহাম্মদ সিরাজ (২৮) ও মুহাম্মদ শহিদ (২৪)। তাঁদের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বন্দারাবাজার পাড়ায়।
স্বজনরা জানান, বুধবার রাতে ওমান থেকে বড় ছেলে মুহাম্মদ রাশেদ মায়ের কাছে ফোন করে দোয়া চান। সে সময় চার ভাই একটি গাড়িতে করে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। ফোনে রাশেদ জানান, তাঁদের শ্বাসকষ্ট হচ্ছে এবং হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। ফোনের ১০ মিনিট পর থেকেই তাঁদের কারও সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। পরে ওমানের মুলাদ্দা এলাকার একটি হাসপাতালের সামনে গাড়ির ভেতর থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের ধারণা, গাড়ির ভেতর কোনো ধরনের বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় তাঁদের বাড়িতে শোকের মাতম নেমে আসে। আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী বাড়ির বাইরে ভিড় করলেও কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কারণ, চার ভাইয়ের মা এখনো জানেন না তাঁর ছেলেরা মারা গেছেন।
পরিবারের একমাত্র জীবিত ছেলে মুহাম্মদ এনাম বাড়ির ফটকে তালা লাগিয়ে রেখেছেন। তিনি জানান, মায়ের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। এমন অবস্থায় মৃত্যুর খবর জানালে বড় ধরনের বিপদ হতে পারে।
স্বজনদের ভাষ্য, প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে ধারদেনা করে ওমানে যান বড় ভাই মুহাম্মদ রাশেদ। সেখানে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করার পর ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে এক শেখের গাড়িচালক হিসেবে চাকরি পান। পরে একে একে আরও তিন ভাইকে ওমানে নিয়ে যান এবং তাঁদেরও কাজের ব্যবস্থা করেন।
চার ভাইয়ের উপার্জনে বদলে যায় পরিবারের ভাগ্য। গ্রামের বাড়িতে তৈরি হয় দোতলা পাকা বাড়ি। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনজন ছিলেন অবিবাহিত। নিহত দুই অবিবাহিত ভাই সিরাজ ও শহিদ দেশে এসে বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ জন্য তাঁদের বিমানের টিকিটও কাটা ছিল। শুক্রবার দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁদের।
স্বজনরা জানান, কেনাকাটার জন্য চার ভাই একসঙ্গে মার্কেটে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথেই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
নিহত রাশেদের স্ত্রী কুলসুমা আক্তার ও সাহেদের স্ত্রী শান্তা আক্তারও খবর পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির হোসেন বলেন, একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁদের মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হচ্ছে।
এমআর/আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!