গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে।
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে।   ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক কিছু তথ্য, যা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা।

মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মো. মাজহারুল হক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত শারমিন খানম, তার ভাই রসুল মোল্লা, বড় দুই মেয়ে মীম ও হাবিবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এছাড়া তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে নির্মমভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

আর ছোট মেয়ে ফারিয়াকে ঘরের মেঝেতে ফেলে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, স্ত্রী শারমিন খানমকে দুই হাত ও মুখ বেঁধে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মো. মাজহারুল হক বলেন, হত্যার আগে নিহতদের কোনো চেতনানাশক দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে তাদের পেটের ভেতরের নমুনা এবং ঘরে পাওয়া নেশাজাতীয় দ্রব্যের বোতল, রান্না করা সেমাই ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহ করে সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ল্যাব প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে শারমিন খানমের বাবা নিহতের স্বামী ফোরকান মোল্লাকে (৪০) প্রধান করে অজ্ঞাত চারজনের নামে হত্যা মামলা করেছেন।

তিনি আরও জানান, ফোরকান মোল্লাকে গ্রেপ্তারে সিআইডি, পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।

 শনিবার (৯ মে) সকালে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী মজিবুর রহমানের একটি আবাসিক ভবনের নিচতলার দুটি কক্ষ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে জীবিকার তাগিদে গাজীপুরে বসবাস করতেন।

দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে হত্যা করে অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়, যেখানে সবাইকে হত্যা করার কথা লেখা ছিল। পাশাপাশি স্ত্রীর বিরুদ্ধে ফোরকানের লেখা একটি অভিযোগপত্রও পাওয়া গেছে।

এমআর/আরটিএনএন