গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার অনুরোধ ধর্মমন্ত্রীর
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।   ছবি: আরটিএনএন

গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অনুরোধ জানান।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, “তারেক রহমান প্রথমবার এমপি হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি এত ভালো কাজ করছেন, যা অনেকেই সহ্য করতে পারছেন না। এজন্য আপনাদের (সাংবাদিকদের) চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। যারা গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করতে চায়, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড, দরিদ্র মহিলাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারই দায়িত্ব নেওয়ার এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বেশি কাজ করতে পারেনি।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা তুলে ধরে কায়কোবাদ বলেন, সাধারণত বিরোধী দল সরকারের ভুল-ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আজকাল তারা সেটা না করে বরং কীভাবে সরকারকে বিব্রত করা যায়, সেই চেষ্টা করছে।

সাংবাদিকতায় নারীদের অংশগ্রহণ কম উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী নারী সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানান। তিনি মাদক সম্রাটদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সোচ্চার ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন জুলুমের শিকার না হন, সেদিকেও খেয়াল রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারকে কারা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার চেষ্টা করছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যারা সরকারের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি, তারা সবাই।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “ভারত বিশাল দেশ। তাদের আমি শ্রদ্ধা করি, কারণ তারা গণতন্ত্রকে লালন করে। তবে তারা যদি সংখ্যালঘুদের আরও আপন করে নেয়, নিরাপত্তা দেয় এবং জনগণের অংশ হিসেবে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে, তাহলে আরও বেশি শ্রদ্ধা করব।”

তিনি বলেন, “ভারতে কী হচ্ছে, সেটি বড় বিষয় নয়। ভারতে ঘটছে বলে বাংলাদেশেও ঘটবে—এমনটা হতে দেওয়া হবে না। এখানে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার, জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করা হবে না।”

তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের আলাদাভাবে ইজতেমা আয়োজন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “দুই পক্ষ যদি একসঙ্গে চলতে পারে, তাহলে আমি খুব খুশি হব। আগের অবস্থানে ফিরে গেলে আরও ভালো হবে। তবে এ সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।”

বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সংলাপ সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।