ফল বাজার, দাম চড়া,
রাজধানীতে ফলের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও দাম চড়া।   ছবি: আরটিএনএন

তীব্র গরমে শরীর সুস্থ রাখতে রাজধানীতে মৌসুমী ফলের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। আম, লিচু, তরমুজ, জাম ও কাঁঠালের মতো রসালো ফলে বাজার ভরে উঠলেও উচ্চমূল্যের কারণে স্বস্তি নেই সাধারণ ক্রেতাদের। 

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে এখনও মৌসুমী ফলের দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় প্রয়োজন মতো ফল কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ফল কিনতে আসা ক্রেতা মো. রাকিব হোসেন বলেন, “বাজারে ফল অনেক, কিন্তু দাম এত বেশি যে সব ধরনের ফল কেনা সম্ভব হচ্ছে না। শিশুদের জন্য কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা সাধারণ মানুষ ফল খেতেই পারবো না।”

দিলুরোডের গৃহিণী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘গরমে পরিবারের সবাইকে ফল খাওয়াতে চাই, কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় পরিমাণ কমিয়ে কিনতে হচ্ছে। শখ কোনোভাবে পূরণ করছি, কিন্তু নিজের দেশের ফল খেয়ে তৃপ্তি পাচ্ছি না।’

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত গরম, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কয়েকটি অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির কারণে ফলের সরবরাহে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। এতে বাজারে ফলের উপস্থিতি বাড়লেও দাম আশানুরূপ কমছে না।

কারওয়ান বাজারের ফল ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, “মৌসুমের শুরুতে দাম একটু বেশি থাকে। তবে কয়েক সপ্তাহ পর সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে।”

মগবাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন জানান, ‘এখন আম ও কাঁঠালসহ গ্রীষ্মকালীন ফলের চাহিদা অনেক বেশি। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে।’

বর্তমানে বাজারে গোপালভোগ ও হিমসাগর আম কেজিভেদে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। লিচু প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা, তরমুজ আকারভেদে ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং কাঁঠাল ২০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, প্রচণ্ড গরমে শরীর সুস্থ রাখতে মৌসুমী ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব ফলে থাকা পানি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে। তবে দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী ফল কিনতে পারছেন না, যা স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

তবে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, মৌসুম পুরোদমে শুরু হলে এবং সরবরাহ আরও বাড়লে ফলের দাম কিছুটা।